
বশির আহমেদ, বান্দরবান প্রতিনিধি।।
বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিংকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে বান্দরবান শহরের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আগে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়।
বেলা ৩টার দিকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মাম্যাচিংকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতের উন্নয়ন এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে জেলা পরিষদকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে পরিষদকে আরও জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাম্যাচিং বলেন, জেলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে পার্বত্য জেলা পরিষদকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা থাকবে। জনকল্যাণ ও জেলার সার্বিক উন্নয়নে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
মাম্যাচিং দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি ১৯৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। তিনি মারমা নারীদের মধ্যে প্রথম স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হিসেবে পরিচিত। বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর তিনি পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিএনপির উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাম্যাচিং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল এবং ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জেলা পরিষদ আরও গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে জেলার সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার সম্প্রসারণ, কৃষি ও পর্যটনের বিকাশ এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অনুষ্ঠান শেষে মাম্যাচিংয়ের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বান্দরবানবাসীর কল্যাণে তার নেতৃত্বে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা।