
নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি শিক্ষাবান্ধব সরকার এবং শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। কেবল নির্দিষ্ট কোনো এলাকা নয়, সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলে গুণগত ও কোয়ালিটি শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।
আজ ০২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) বান্দরবান পৌরসভার আয়োজনে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৯০ জন অদম্য মেধাবী কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, “মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বৃত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা একটি চমৎকার উদ্যোগ। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব বাড়বে এবং তারা একাডেমিক ফলাফলে আরও সাফল্য অর্জন করতে পারবে।”
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস. এম. মনজুরুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সজীব কান্তি রুদ্র, বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোহাম্মদ কামরুল হাসান খান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কৃতী ৯০ জন শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পূর্বে সকালে বান্দরবান পৌরসভা মিলনায়তনে পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।
সভায় পৌরসভার প্রশাসনিক দক্ষতা ও সেবার মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, বান্দরবান পৌরসভা আমাদের প্রাণকেন্দ্র এবং পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণে এর ভূমিকা অত্যন্ত অনস্বীকার্য। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে অফিস স্টাফদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা থাকা আবশ্যক।
শহরের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রিসাইক্লিং আধুনিক শহরের জন্য একটি মৌলিক বিষয়। শহরকে পর্যাপ্ত আলোকায়নের আওতায় আনা হলে তা ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের আকর্ষণ করবে এবং নির্বিঘ্নে চলাফেরায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি বান্দরবানকে একটি ‘শিক্ষাবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব’ শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সভায় পৌর প্রশাসক জানান যে, প্রথম শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত এই পৌরসভায় বর্তমানে কর্মরত জনবল রয়েছে মাত্র ৩২ জন এবং ১২৭টি পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি শূন্য পদ পূরণ, হাসপাতাল সড়ক সংস্কার, আধুনিক লাইটিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট ও ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
বিকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সকল সংস্থার প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অপর এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন মন্ত্রী সাচিং প্রু। সভায় বান্দরবানের উচ্চশিক্ষারত দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে পুস্তক বিতরণ করা হয়।
উক্ত সভায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, প্রাইমারি স্কুল গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট, নতুন কুঁড়ি রেজিস্ট্রেশন, নজরুল বর্ষ ২০২৬ পালন, খাল খনন, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষকদের শূন্য পদ পূরণসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় পার্বত্য অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি ও কৃষি ক্ষেত্রে মন্ত্রী সাচিং প্রু বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা সংশ্লিষ্টদের প্রদান করেন। মন্ত্রী জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি ভাষা সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে সরকার অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ইতোমধ্যে ১০টি ভাষার অনুবাদের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভাষা পুনরুদ্ধারে স্ব-স্ব ভাষার নিয়মিত চর্চা অব্যাহত রাখার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির ৩১ দফার মধ্যেও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা সংরক্ষণ ও সংগ্রহের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে মন্ত্রী সাচিং প্রু পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটিতে কফি, কাজুবাদাম, রাম্বুটান, লটকন ও মাশরুম চাষের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের যে পথ দেখিয়েছেন, আমরা সেই আদর্শ ধরে এগিয়ে যেতে চাই এবং একটি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চাই।
বান্দরবান জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচার রোধে কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন মন্ত্রী।