
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে প্রণীত ‘লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান’ (এলআরপি) গুইমারা উপজেলায় জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং টেকসই অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার (১৭জুন ২০২৬) সকাল ১০টায় গুইমারা উপজেলা অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে এক অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করা হয়। কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর উদ্যোগে এবং ‘ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি’ (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিশকাতুল তামান্না। এতে লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন CoRLIA প্রকল্পের গুইমারা উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর রাসিল ত্রিপুরা। তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মতামত, প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও বাস্তবমুখী ও কার্যকর করতে ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন CoRLIA প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবলু হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কৃষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন ও দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় জানানো হয়, CoRLIA প্রকল্পের কার্যক্রম ইতোমধ্যে গুইমারার দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উপজেলার দুটি সাইটের ছয়টি পাড়ায় সৌরশক্তিচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকাংশে লাঘব হয়েছে। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বনির্ভর কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান প্রদান তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে।
বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সভায় প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকা এলাকাগুলোতেও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভা শেষে বক্তারা জলবায়ু সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।