
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় মানুষের ঘরে আলো জ্বালানো থেকে শুরু করে মোবাইল ফোন চার্জসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সোলার এখন অন্যতম নির্ভরযোগ্য উৎস হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। ছোট ছোট সৌরপ্যানেলের মাধ্যমে দুর্গম জনপদের মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পাওয়ায় পাহাড়ে সোলারের ব্যবহার ও চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামো গড়ে তোলা অনেক ক্ষেত্রে ব্যয়বহুল ও কঠিন। এমন বাস্তবতায় সৌরবিদ্যুৎ শুধু বিকল্প নয়, বরং প্রত্যন্ত মানুষের জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের একটি কার্যকর উৎস হয়ে উঠেছে। ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি কার্যালয় ও বিভিন্ন স্থাপনায় রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে বিদ্যুতের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায়ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
রবিবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পৌরসভা কনফারেন্স রুমে ‘Benefits of Rooftop Solar: Community Knowledge, Practices and Way Forward’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। Forum on Ecology and Development (FED), খাগড়াছড়ি ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে এবং CLEAN ও BWGED-এর সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে সোলারের ব্যবহার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ছোট পরিসরের সৌরপ্যানেল ব্যবহার করে দুর্গম এলাকার মানুষ আলো জ্বালানো, মোবাইল ফোন চার্জসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন স্থাপনাতেও রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে হাইব্রিড সোলার ব্যবস্থা চালু করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি তা সংরক্ষণ করে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা সম্ভব। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিল ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
তবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, পাহাড়ে দীর্ঘ বর্ষাকালে সূর্যের আলো কম থাকায় সোলার প্যানেলের বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে যায়। ফলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে ব্যাটারি সংরক্ষণ, হাইব্রিড প্রযুক্তি এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা আরও বলেন, কোনো এলাকায় সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে শুধু যন্ত্রপাতি স্থাপন করলেই হবে না; এর সুবিধা-অসুবিধা, ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার সম্পর্কে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত ধারণা দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও জরুরি।
সভায় রুফটপ সোলারের সুফল, কমিউনিটির জ্ঞান ও ব্যবহারিক চর্চা, পাহাড়ি অঞ্চলে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে এর সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।