
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের উদ্যোগে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার অনুপ্রেরণা জোগাতে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
রোববার (৩০আগস্ট) সকাল ১১টায় বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক শাহজালাল সাইফী।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক আবদুল হামিদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির পার্বত্য বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রশিদ, বাইশারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাসান আলী, বাইশারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হাকিম, থোয়াঙ্গাকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তৌহীদ, বাইশারী শাহ নুরুদ্দীন দাখিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আবদুল গফুর, বাইশারী বালিকা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রফিকুল ইসলাম, নারিচবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জহিরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহবায়ক আলী মোহাম্মদ মিনহাজ, প্রভাষক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আবদুল মাবুদ, হাকিম সিকদার, আনোয়ার হোসাইন বাপ্পি, মাহাফুজা ইসলাম, ফারুকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী খালেদ বশরী।
বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষিত ও মেধাবী প্রজন্মই পারে সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না; শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। মেধাবীদের সাফল্যের পথ আরও সুগম করতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
তারা আরও বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কঠোর পরিশ্রম করে ভালো ফলাফল অর্জন করছে। তাদের এই সাফল্য শুধু পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে নিয়মিত এ ধরনের সংবর্ধনা ও সম্মাননা আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মোট ৪২ জন কৃতি ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হতে অনুপ্রাণিত করবে। তারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আজকের সাফল্য যেন শিক্ষাজীবনের শেষ গন্তব্য না হয়। বরং এই অর্জনকে ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ হিসেবে নিতে হবে। জীবনে নানা প্রতিকূলতা এলেও সততা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
মেধাবীদের পাশে দাঁড়াই, সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।