
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি:
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় ফাইতং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়ির চিকন ঘোনা এলাকায় সাত বছরের এক কন্যাশিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পরিবার ও স্থানীয়রা।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে বুড়ির চিকন ঘোনা এলাকার একটি ইসলামি মিশন চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ তোলে। পরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে বাড়িতে ফিরে এলে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারে।এরপর শিশুটির বাবা, চাচা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে। পরিবারের দাবি, সেখানে শিশুটি অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে ফাইতং পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন বলে জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আটক ব্যক্তিরা ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তবে তাদের ওই বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। থানায় এজাহার সূত্রে অভিযুক্তরা হলেন একি এলাকার, গিয়াস উদ্দীন ছেলে ইয়াদুল ইসলাম (১৬), কাদের ছেল আরিয়ান (১৪)।
কিশোর গ্যাং নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ কয়েকজনের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন এলাকায় কিশোরদের নিয়ে একটি দল বা গ্যাং-সদৃশ কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এলাকায় কিশোরদের একটি অংশের বেপরোয়া চলাফেরা ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা ঠেকাতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে বর্তমান অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পর শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার পক্ষ থেকে জানায়। এদিকে, এত অল্প বয়সী একটি শিশুর সঙ্গে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শিশুটির নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার নাম, ছবি, সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বা পরিচয় শনাক্ত হতে পারে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফাইতং পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ইমেল রায় বলেন, দুইজন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিম হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় আছে। পরে ডাক্তার রিপোর্ট আসলে তদন্তে জানা যাবে বলে জানান তিনি।