
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
ঐতিহ্যবাহী ফসলের পুনরুজ্জীবন, টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাস্তবায়িত ৩১৯৭-ST-NRM প্রকল্পের সমাপনী সভা ও সাফল্য উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে খাগড়াছড়িতে।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জেলা সদরের মিলনপুরে হোটেল গাইরিংয়ের কনফারেন্স হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাবারাং কল্যাণ সমিতির আয়োজনে তেবতেব্বা ফাউন্ডেশন ও International Fund for Agricultural Development (IFAD)-এর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়।
জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও পৌর প্রশাসক রুমানা আক্তার।
অনুষ্ঠানটি তেবতেব্বা ফাউন্ডেশনের প্রকল্প কর্মকর্তা দয়ানাথ রোয়াজার সার্বিক পরিচালনা ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিসহ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় ও ঐতিহ্যবাহী ফসলের সংরক্ষণ ও পুনরুজ্জীবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদনে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘Revival of traditional crops and sustainable technologies for a resilient food system and sustainable natural resources management’ শীর্ষক প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী ফসলের পুনরুজ্জীবন, কৃষিতে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও সহনশীল ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রকল্পের সমাপনী সভায় বাস্তবায়নকালীন বিভিন্ন অভিজ্ঞতা, অর্জন ও সাফল্যের দিকগুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ফসল সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি প্রযুক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে যে সচেতনতা ও সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিজস্ব জ্ঞান, ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতি ও স্থানীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহারকে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করা গেলে খাদ্যনিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব।
আলোচনা সভা শেষে প্রকল্পের আওতাভুক্ত প্রান্তিক অঞ্চলের সদস্যদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী ফসলের পুনরুজ্জীবন, টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।