
বশির আহাম্মদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি
বান্দরবান পৌরসভার মেম্বার পাড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১টি মাদক মামলার এজাহারনামীয় আসামি নয়ন চৌধুরী (৫০)-কে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করেছে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটের দিকে বান্দরবান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পাড়ায় রঞ্জিত চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া বাসার সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর থানার এসআই (নিরস্ত্র) রহিত কুমার বিশ্বাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করা নয়ন চৌধুরীকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি চালিয়ে ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
গ্রেপ্তার নয়ন চৌধুরী (৫০) বান্দরবান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পাড়ায় রঞ্জিত চৌধুরীর বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। তিনি মৃত অরুন চৌধুরীর ছেলে ও বাসনা চৌধুরীর সন্তান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নয়ন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এর আগেও মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত ১১টি মামলা রয়েছে। একাধিক মামলার আসামি হওয়ার পরও তার কাছ থেকে নতুন করে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় মাদকবিরোধী পুলিশের অভিযান ও নজরদারি নিয়ে গুরুত্ব দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা ৩৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করে গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় নতুন করে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজ বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে বান্দরবান সদর থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
পুলিশ জানিয়েছে, বান্দরবান শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদক বিক্রি, সরবরাহ ও সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়াতেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।