
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আশা (অঝঅ)। ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ও বাইশারী এলাকার মোট ২ হাজার ৩৪৭ জন সদস্যের মাঝে ২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঈদগড় শাখা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশা’র ডুলাহাজারা অঞ্চলের এসআরএম শিবু দাশ শিংহ। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈদগড় ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তৈয়ব উল্লাহ, বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল আলম মেম্বার, ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বেলাল, আশা’র সিনিয়র ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার দ্বিজেন কান্তি পালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ঈদগড় আশা’র সিনিয়র ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম
জানায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৩৪৭ জন সদস্যকে জনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে মোট ২৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১০০ জন সদস্যের হাতে এ সহায়তার অর্থ তুলে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাকি সদস্যদের কাছেও প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে আশা’র ডুলাহাজারা অঞ্চলের এসআরএম শিবু দাশ শিংহ বলেন, “ভয়াবহ বন্যায় আমাদের অনেক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘবের উদ্দেশ্যেই এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের পুনরায় স্বাবলম্বী করতে সুদমুক্ত ঋণ কর্মসূচিও চালু করা হবে।”
প্রধান অতিথি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আশা একটি মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে। সমাজের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসা উচিত।”
বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন বলেন, “দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আশা’র এই উদ্যোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জোগাবে।”
প্রণোদনা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বন্যায় তাদের ঘরবাড়ি, ফসল ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এমন কঠিন সময়ে এই আর্থিক সহায়তা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এবং নতুনভাবে জীবন-জীবিকা শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রথম পর্যায়ের উপকারভোগীদের হাতে প্রণোদনার অর্থ তুলে দেওয়া হয়। আশা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যের হাতে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং পরবর্তী সময়ে সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে সহায়তা করা হবে।