বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৪:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাঙ্গামাটিতে ৮৬ হাজার ৬৫৭ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে রাঙ্গামাটির বরকলে গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২ রাজস্থলীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর চলছে অতিরিক্ত দায়িত্বে, সেবাবঞ্চনার অভিযোগ রাঙামাটিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা, বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা রামুতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সভায় ওসি মনিরুল ইসলাম পাঁচ বছরেও স্থাপিত হয়নি ঈদগাঁও উপজেলা ভূমি অফিস দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে দীঘিনালায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ইউপিডিএফের অভিযোগ জেএসএসের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড়ে সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযান; গোলাগুলির পর আত্মসমর্পণ ২, নিহত ১; উদ্ধার একাধিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সাজেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিলাইছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর পাশ বই বিতরণ ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘুমধুম সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আবারও মাইন বিস্ফোরণ: কৃষিশ্রমিক আহত, সীমান্তজুড়ে নতুন উদ্বেগ সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ রামগড় থানার এসআই ঈদগাঁও মাইজ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জাম গাছ থেকে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু পর্যটকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ভূয়া গনবিজ্ঞপ্তিতে কান দিবেন না- বান্দরবান জেলা প্রশাসক

রাঙামাটিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা, বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা

Reporter Name

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটি জেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে জেলার আমচাষিদের মুখে ফিরেছে স্বস্তি ও আনন্দ। পাহাড়ি ঢালু জমিতে উৎপাদিত এসব আম ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপজেলা থেকে চাষিরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহার করে আম রাঙামাটি শহরের বাজারগুলোতে নিয়ে আসছেন। শহরের বনরূপা সমতাঘাট বাজার, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি বাজার ও কলেজ গেট এলাকার বাজারে প্রতিদিনই পাহাড়ি আমে ভরে উঠছে আড়ত ও খুচরা বাজার।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে আম্রপালি ও রাঙ্গুই জাতের আম। এ বছর দুই জাতের আমের ফলন আগের বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দুইজন আমচাষি জানান, তারা এবছর আম্রপালি ও রাঙ্গুই আমের ভালো ফলন পেয়েছেন। দুর্গম এলাকা থেকে প্রায় ২০০ মণের বেশি আম সংগ্রহ করে তারা শহরের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা জোনাকি চাকমা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রচুর আম আসছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। তিনি দাবি করেন, এবারের আমে কোনো ধরনের ফরমালিন ব্যবহার করা হয়নি। আম্রপালি ও রাঙ্গুই আম খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটির উৎপাদিত আম প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং পরিবহন সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে আমের সরবরাহ বেশি হওয়ায় চাহিদা মেটানো সহজ হচ্ছে। ফরমালিনমুক্ত ও স্বাদে ভিন্ন হওয়ায় রাঙামাটির আমের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, জেলায় মোট ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য উৎপাদন ৪০ হাজার মেট্রিক টন এবং সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়েছে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। জেলার বেশিরভাগ আমচাষই পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। রাঙামাটির আম ছাড়াও কাঁঠাল, আনারস ও কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার কৃষিখাতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *