
রাঙামাটির পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্পের নতুন সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী জাতীয় ট্যুরিজম সম্মেলন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকাল আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের উদ্যোগে ক্যাম্পাসের সম্মেলন কক্ষে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে পর্যটন শিল্পের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গবেষণাভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বক্তারা বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নীতিমালার মাধ্যমে রাঙামাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা সম্ভব।
আলোচনায় আঞ্চলিক পর্যটন সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড়ি জনপদ, নৈসর্গিক বনাঞ্চল এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সংস্কৃতিকে সঠিক ব্র্যান্ডিং ও প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ওপর জোর দেন বক্তারা।
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটন উন্নয়ন। আলোচকরা বলেন, পাহাড় ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ছাড়া পর্যটনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি নতুন পর্যটন গন্তব্য বিকাশ নিয়েও আলোচনা হয়। কম পরিচিত ও অনাবিষ্কৃত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে পর্যটন উপযোগী করে তোলার মাধ্যমে পর্যটনের চাপ কমানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টির প্রস্তাব তুলে ধরেন গবেষকরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হোসাইন উদ্দিন শেখর এবং রাবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. আতিয়ার রহমান।
সম্মেলনের মূল সহযোগী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। প্লেনারি সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা অধ্যাপকরা দেশের পর্যটন শিল্পের বর্তমান অবস্থা, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং টেকসই পর্যটন নীতিমালা নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
দু’দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের ৭০টিরও বেশি পর্যটন গবেষক তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করছেন। এসব গবেষণায় রাঙামাটি ও পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নতুন গন্তব্য বিকাশের বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে রাঙামাটির পর্যটন সম্ভাবনা জাতীয় পর্যায়ে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে পর্যটন শিল্পের কার্যকর সংযোগ গড়ে উঠবে। এর মধ্য দিয়ে রাঙামাটি পরিণত হবে দেশের অন্যতম টেকসই ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে।