
মো. ইউসুফ, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি।।
টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে একটি সেতুর অংশ ধসে পড়েছে। এতে বান্দরবানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। একই ঘটনায় বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর প্রায় ৪টার দিকে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া শিলক খাল এলাকার বেইলি সেতুর একটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দক্ষিণ পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে যায়। এতে বান্দরবান ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটি রাঙ্গুনিয়া, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ।
এদিকে খালের তীর ভেঙে কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাঙ্গুনিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং সংলগ্ন কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত নাপিতপুকুরিয়া-দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যাম প্রকল্পের বেড়িবাঁধ পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ভেঙে গেছে। সেতুর দক্ষিণ পাশের সড়কসংলগ্ন কয়েকটি দোকান ও বসতঘরও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া অনেক বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে এবং শতাধিক পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তারা জানান।
স্থানীয় যুবনেতা তারেক চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে প্রবল স্রোতে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের সেতুর দক্ষিণাংশ ধসে পড়ে। এর ফলে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ পর্যাপ্ত টেকসই না হওয়া এবং অতীতে শিলক খাল থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বালু উত্তোলনের ফলে খালের তলদেশ গভীর হয়ে যাওয়ায় পানির প্রবল স্রোত সরাসরি তীরে আঘাত করছে। তবে বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে বলেও তারা জানান।
পাহাড়ি ঢলের পানিতে শিলক খালের দুই তীরের বিস্তীর্ণ এলাকার আউশ ধান, মৌসুমি সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার বসতভিটা, গৃহপালিত পশু এবং অন্যান্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত সেতু সংস্কার, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।