
হাবীবুল্লাহ মিসবাহ, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি।
পাহাড়ে বর্ষবরণ বা ‘বৈসাবী’ উৎসবের আমেজ শুরু হয়েছে। প্রত্যেক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও রীতিনীতিতে নতুন বছরকে বরণ করার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে।
এরই ধারাবাহিকতায় সাংগ্রাই উপলক্ষে রাজস্থলী উপজেলাতে পথচারীদের বিভিন্ন ধরনের শরবত বিতরণ করছে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজস্থলী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মারমা অধ্যুষিত গ্রাম ও প্রধান বাজারগুলোতে মারমা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী গান-বাজনার তালে তালে উৎসবমুখর পরিবেশে এই শরবত বিতরণ করা হচ্ছে। তরুণ-তরুণীরা নিজেদের উদ্যোগে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ক্লান্ত পথচারী ও যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন সুস্বাদু শরবত।
কয়েকজন মারমা তরুণ-তরুণী জানান, এটি তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতি। নতুন বছরকে বরণ করার এই বিশেষ আয়োজনে মূলত বয়স্ক ও অতিথিদের আপ্যায়নের মাধ্যমে আশীর্বাদ গ্রহণ করা হয়। এছাড়া অনেক তরুণ-তরুণী বাড়ি বাড়ি গিয়েও প্রবীণদের শরবত পান করিয়ে সম্মান ও মৈত্রী বন্ধন সুদৃঢ় করেন।
কয়েকজন পথচারী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “গ্রীষ্মের এই তীব্র গরমে মারমা সম্প্রদায়ের তরুণদের এমন আতিথেয়তা সত্যি মুগ্ধ করার মতো। এটি পাহাড়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য নিদর্শন।”
মূলত বৈসাবী উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ের বাঙালি, চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা ও খিয়াংসহ সকল জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি হয়, এই শরবত বিতরণ কর্মসূচি তারই একটি অংশ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।