
আবদুর রশিদ, নাইক্ষ্যংছড়ি।।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের হাজির পাড়ায় কোরআনে হিফজ সম্পন্নকারী, দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ এবং দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করা এবং তাদের মেধা ও সাফল্যের স্বীকৃতি দিতে প্রথমবারের মতো এ আয়োজন করে তাওহীদি জনতা সংগঠন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হাজির পাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কোরআনে হিফজ সম্পন্নকারী, দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ এবং দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। হাফেজ মাওলানা সাইফুল ইসলামের সহযোগিতায় এবং তাওহীদি জনতা সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি হাফেজ মাওলানা হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গর্জনিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফেরদৌস আলী (ফিরুজ মেম্বার)। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক মো. আব্দুর রশিদ। অনুষ্ঠানে হাফেজ মাওলানা মো. তাহের, হাফেজ মাওলানা ফারুখ আজম, মাওলানা লোকমান হাকিম, জাফর আলম, হাজী আব্দুস শাকুর, হাফেজ মাওলানা জহির উদ্দিন, মাওলানা এরশাদুল হক, হাফেজ মাওলানা সজিব ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তব্য দেন তাওহীদি জনতা সংগঠনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কোরআন-হাদিসের শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও এগিয়ে নিতে হবে। কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় মনোযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা, পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, আদব-আখলাক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে সময়ের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত পড়াশোনা এবং অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকেরা জানান, স্থানীয় কৃতী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই প্রথমবারের মতো এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী ও সমাজের কল্যাণে আরও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে কোরআনে হিফজ সম্পন্নকারী, দাওরায়ে হাদিস উত্তীর্ণ এবং দাখিল ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। পরে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতা কামনা করে দোয়া করা হয়।