সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাজেকে পর্যটকবাহী গাড়ি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ফিরে যাওয়ার নির্দেশ রাঙামাটিতে দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, ৪৭ মণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে হস্ত ও কুঠির শিল্পের বিকাশে দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন ৪৮ ঘণ্টার জন্য শিথিল সাজেকের সড়ক অবরোধ: ফিরছেন শত শত পর্যটক থানচিতে ইয়াবা সহ আটক এক বান্দরবান সেনানিবাসে তিন সপ্তাহব্যাপী ধাত্রীবিদ্যা প্রশিক্ষণ কাপ্তাই তথ্য অফিসের আয়োজনে ফ্যামিলি সমাবেশ অনুষ্ঠিত বান্দরবানে পাহাড়ে পর্যটক বরণে প্রস্তুত প্রতিটি উপজেলায় খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার- ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি রাঙামাটিতে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা: শহরের বেহাল সড়ক সংস্কারে জোর তাগিদ দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা বাঘাইছড়িতে মুসলিম ব্লক দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার দ্বিবার্ষিক কমিটি গঠন পানছড়ি উপজেলায় পাহাড়ের বুক চিরে খাল ভরাট, ২০ হাজার টাকা জরিমানা রাঙামাটিতে ক্যাবের নতুন কমিটি: সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সম্পাদক হিমেল চাকমা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের লক্ষ্যে বান্দরবানে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান ফারুয়ার ডেবাছড়ায় বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে হবে — ইউএনও অভি দাশ

লামায়–আলীকদমে তামাক চাষের আগ্রাসন

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় ও আলীকদম উপজেলায় ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে তামাক চাষের আগ্রাসন। সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ঝিরি, খাল ও নদীর পাড় দখল করে নির্বিঘ্নে পরিচালিত এই তামাক চাষ দেশের প্রচলিত পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনের সরাসরি লঙ্ঘন হলেও কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।
বন আইন, ১৯২৭ (সংশোধিত) অনুযায়ী, সরকারি বনভূমিতে অনুমতি ব্যতীত কোনো প্রকার কৃষিকাজ, বৃক্ষ নিধন কিংবা ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ লামায়ও আলীকদমে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে বনভূমি উজাড় করে তামাক চাষ করা হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদ দখলের শামিল।তামাক চাষে ব্যবহৃত অতিমাত্রার কীটনাশক ও রাসায়নিক সার বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে নদী, খাল ও ঝিরিতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জলজ প্রাণী বিশেষত মাছের ব্যাপক প্রতিনিয়ত মৃত্যু ঘটনা ঘটছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, দুই উপজেলায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী, পরিবেশের ক্ষতি সাধনকারী যেকোনো কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। বাস্তবে এসব আইন প্রয়োগে চরম শৈথিল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাংলাদেশ মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী, কোনো জলাশয়ে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর পদার্থ নিক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তামাক ক্ষেতে ব্যবহৃত কীটনাশক যখন ঝিরি ও খালে মিশে মাছ নিধনের কারণ হচ্ছে, তখন তা এই আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। তামাক চাষের জন্য পাহাড় কেটে জমি সমতল করায় ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। অপরদিকে, বিশুদ্ধ পানির উৎস ধ্বংস হওয়ায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছেন।
পরিবেশবিদদের মতে, তামাক চাষ স্বল্পমেয়াদি মুনাফা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি ভূমির উর্বরতা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ধ্বংস করে।লামায়-আলীকদমে দুই উপজেলায় তামাক চাষের এই অবাধ আগ্রাসন রোধে অবিলম্বে বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত আইনানুগ অভিযান জরুরি। একই সঙ্গে অবৈধ তামাক চাষের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে আইন ও সংবিধানের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে বলে জানান স্থানীয়রা। পরিবেশ রক্ষা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়।এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পাহাড়, বন ও জলাধার হারিয়ে যাবে অপরিবর্তনীয় ক্ষতির পথে এমন অভিযোগ তোলে স্থানীয়দের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *