
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠে নামবে বিজিবি।
বিজিবি চট্টগ্রাম রিজিয়নের অধীন খাগড়াছড়ির গুইমারা সেক্টরের আওতাধীন মাটিরাঙ্গা জামিনীপাড়া ব্যাটালিয়ন (২৩ বিজিবি)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল খালিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে জামিনীপাড়া জোন সদরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের জারি করা সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিজিবি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবে। ভোটাররা যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ সকল ধরনের সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নজরদারি ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিজিবি চট্টগ্রাম রিজিয়নের অধীন গুইমারা সেক্টর সদরসহ তিনটি ব্যাটালিয়ন, দুইটি জেলা ও সাতটি উপজেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবে। দুর্গম এলাকা হওয়ায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনটি সংসদীয় আসনের মোট ৩৪৪টি ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১০টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাটিরাঙ্গা উপজেলায় দুটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ৩২টি ভোটকেন্দ্র, গুইমারায় একটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ১৩টি, মানিকছড়িতে একটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ২১টি, লক্ষীছড়িতে একটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ১২টি, রামগড়ে একটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ২০টি, মীরসরাইয়ে দুটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ১০৬টি এবং ফটিকছড়িতে দুটি বেইজ ক্যাম্প থেকে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।
এছাড়া নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাপিড অ্যাকশন টিম (জঅঞ), কুইক রেসপন্স ফোর্স (ছজঋ) এবং প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান জোন কমান্ডার।