
বশির আহাম্মদ, বান্দরবান প্রতিনিধি।।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি ও মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা উপকরণ, কৃষকদের মধ্যে পাওয়ার টিলার এবং নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
এ উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপিকে গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। বান্দরবান জেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে বান্দরবান ইউনিট অফিসের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, এনডিসি, পিএসসি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ্ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিঠুন ও জসিম উদ্দিন তুষার, বান্দরবান ইউনিট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাতসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপকারভোগীরা।
অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কয়েকটি ভবনের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে ১৫টি পাওয়ার টিলার, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৭ সেট ইলেকট্রনিক্স ও মাল্টিমিডিয়া শিক্ষা উপকরণ এবং নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য ৭০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য এলাকার শিক্ষা, কৃষি ও নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তি ও মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী ব্যবহারের ফলে পাঠদান আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তারা বলেন, কৃষকদের মধ্যে পাওয়ার টিলার বিতরণের মাধ্যমে কৃষিকাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। এতে কৃষিকাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে নারীদের সেলাই মেশিন দেওয়ার ফলে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং তারা আয়মূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন এবং এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়।