রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পুকুরে পানিতে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্য রাঙ্গামাটি বড়ুয়া জনকল্যাণ সংস্থা ও বুদ্ধাংকুর বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দিপুর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে শুভ উদ্বোধন হলো সম্প্রীতি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ বিলাইছড়িতে দুই ইউএনওকে বিদায় ও বরণ সংবর্ধনা পানছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গর্ভকালীন স্বাস্থ্য, পরিচর্যা, প্রসব, শিশু স্বাস্থ্য ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষন দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২০ নারীকে ধাত্রীবিদ্যা ও ৪৭ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ক দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন কাপ্তাইয়ে দেশীয় মদ তৈরির অবৈধ কারখানায় বিজিবির অভিযান ফাইতং খেদারবাঁধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন ফাইতং খেদারবাঁধ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গোয়ালঘরে আগুন, মহালছড়িতে তিন গরুর মৃত্যু খাগড়াছড়িতে বিডি ক্লিনের বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যা কার্যক্রম বাঘাইছড়ির পশ্চিম মুসলিম ব্লকে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মাদক নির্মূলে আলোচনা সভা আমতলী সুপার কাপ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত রাঙ্গুনিয়ায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশ বান্দরবানে জুমের পাকা ধান কাটা শুরু, সবুজ পাহাড় এখন সোনালি রঙে রঙিন

দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২০ নারীকে ধাত্রীবিদ্যা ও ৪৭ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ

Reporter Name

মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা প্রতিনিধি

দুর্গম পাহাড়ে বসবাস, সীমিত সুযোগ আর নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বাড়িয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে ধাত্রীবিদ্যা (নার্সিং) ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দীঘিনালা জোনের আওতাধীন বরাদম, বাবুছড়া ও জারুলছড়ি আর্মি ক্যাম্পে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় উপজেলা থেকে বাছাই করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ২০ জন নারীকে ধাত্রীবিদ্যা/নার্সিং এবং ৪৭ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক সীমিত হওয়ায় অনেক তরুণ-তরুণী ও নারী তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর সুযোগ পান না। এমন বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের প্রাথমিক মাতৃ ও শিশুসেবা-সংক্রান্ত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক সক্ষমতায়ও ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা যেন নিজেদের ও পরিবারের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পাশে থেকে শিক্ষা, চিকিৎসা, দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”

প্রশিক্ষণ নিতে আসা মিনালী চাকমা বলেন, “দুর্গম এলাকায় বসবাস করায় আমাদের অনেকেরই এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ হয় না। সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আমাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে চাই। আমাদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করে দেওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”

প্রশিক্ষণার্থীদের কয়েকজন জানান, দুর্গম এলাকায় বসবাস করায় শহরকেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী সুযোগ তাদের নাগালের বাইরে থাকে। ফলে বিনামূল্যে নিজ এলাকায় প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তাদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও সহযোগিতা করতে চান।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোও টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নার্সিং ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো কর্মমুখী উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করায় সুবিধাভোগী পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীরা এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়বে, তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তির বিকাশ ঘটবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *