
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
মিয়ানমার থেকে সীমান্তপথে আসা ইয়াবার চালান দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কক্সবাজার ও বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ ১১টি স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। এসব চৌকিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, সিসিটিভি, মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড এবং যানবাহন ও লাগেজ স্ক্যানার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরে গত ২৭ জুলাই পাঠানো প্রস্তাবে তল্লাশিচৌকি পরিচালনার জন্য ৩২১ জন পুলিশ সদস্য এবং অবকাঠামো ও সরঞ্জাম বাবদ প্রায় ১৩ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, সীমান্তে ইয়াবার চালান আটক করা হলেও পাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নজরদারি এড়াতে পাচারকারীরা পাহাড়ি পথ, পুরোনো সড়ক ও বিভিন্ন বিকল্প রুট ব্যবহার করছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত থেকে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক বলেন, ইয়াবা প্রবেশ ঠেকাতেই এ প্রস্তাব করা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের তল্লাশির পাশাপাশি এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, কক্সবাজারের রামু, সদর, উখিয়া ও চকরিয়ার সাতটি এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশিচৌকি স্থাপনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সেখানে ৪২ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, লাগেজ ও যানবাহন স্ক্যানার, তিনটি এআইভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া উখিয়ার পনেরোছড়া ফরেস্ট অফিস-কাটিয়ার মাথা, রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু, কক্সবাজার রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্টবাজার সড়ক, চকরিয়ার হারবাং সড়ক এবং রামুর গর্জনিয়া ডাকবাংলো মোড়কে নজরদারির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড় ও বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড়েও স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পুলিশের প্রস্তাবে ১১টি তল্লাশিচৌকিতে মোট ৩১টি এআইভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা, ১৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ছয়টি যানবাহন স্ক্যানিং মেশিন ও আটটি লাগেজ স্ক্যানার স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজিবি ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে। বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দের পরও পাচার অব্যাহত থাকায় সীমান্তের পাশাপাশি পাচারের সম্ভাব্য রুটগুলোতে নজরদারি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, সীমান্তে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি বিকল্প সড়ক, পাহাড়ি পথ ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো গেলে পাচারের রুট পরিবর্তনের সুযোগ কমানো সম্ভব। প্রস্