
মো. গোলামুর রহমান, লংগদু প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের এক ডিজিটাল উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নাম সংশোধনের কথা বলে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী আরজু মিয়া নামের এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, টাকা দেওয়ার পরও তাঁর মায়ের এনআইডি ও পরিবারের পাঁচটি জন্মনিবন্ধন সনদ বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগী আরজু মিয়া অভিযোগ করেন, গত ১০ জুলাই তাঁর মায়ের এনআইডিতে নাম সংশোধনের জন্য বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল উদ্যোক্তা জালালের কাছে যান। প্রথমে তাঁর কাছে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে ৪৫ হাজার টাকার বিনিময়ে নাম সংশোধনের কাজ করে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়। এরপর তিনি ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সংশোধিত এনআইডি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
আরজু মিয়া আরও বলেন, এ সময় পরিবারের আরও পাঁচটি জন্মনিবন্ধন সনদ ডিজিটাল করার জন্য ওই উদ্যোক্তার কাছে দেওয়া হয়। এনআইডির সঙ্গে সেগুলোও ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও পরে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁকে ঘোরানো হচ্ছে। দ্রুত কাজ করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি জমি বন্ধক রেখে টাকা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, আরও ৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় তাঁর সব কাজ আটকে রাখা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ডিজিটাল উদ্যোক্তা জালাল বলেন, আরজু মিয়াই তাঁর মায়ের এনআইডির নাম পরিবর্তনের জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। প্রয়োজনে কাগজপত্র প্রস্তুত করে দেওয়ার কথাও তাঁকে বলা হয়েছিল। পরে উভয়ের সম্মতিতে কাজটি করার বিষয়ে চুক্তি হয়। তবে বিভিন্ন দপ্তরে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় ওই অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বগাচতর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার বলেন, ওই উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আগেও এ ধরনের অভিযোগের কথা শুনেছেন। তবে প্রমাণাদি না থাকায় তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমান ঘটনায় এখনো কেউ পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লংগদু উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাঈনুল হক বলেন, উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে এ ধরনের কোনো অর্থ নেওয়া বা এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনার বিষয় তাঁর জানা নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য বিভিন্ন সিস্টেমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগকারী বাইরে থেকে এ কাজ করিয়েছেন কি না, তা তাঁর জানা নেই। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারে।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম পরিবর্তন বা এ ধরনের কাজ করার বিধান নেই। এ বিষয়ে এখনো তাঁর কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি অভিযোগটি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ দাবি করছেন, স্থানীয় পর্যায়ে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবা প্রদানে অনিয়মের সুযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি অনিবন্ধিত ব্যক্তিদের চলাচল বা বসবাসের সুযোগ তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে লংগদুতে রোহিঙ্গা সমাগমের সঙ্গে এই অভিযোগের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে—এমন কোনো সরকারি তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।