বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রামুতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ বিষয়ক সভায় ওসি মনিরুল ইসলাম পাঁচ বছরেও স্থাপিত হয়নি ঈদগাঁও উপজেলা ভূমি অফিস দূর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে দীঘিনালায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার, ইউপিডিএফের অভিযোগ জেএসএসের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ির পানছড়ি ও রামগড়ে সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযান; গোলাগুলির পর আত্মসমর্পণ ২, নিহত ১; উদ্ধার একাধিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সাজেকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বিলাইছড়ি বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিঃ এর পাশ বই বিতরণ ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘুমধুম সীমান্তে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আবারও মাইন বিস্ফোরণ: কৃষিশ্রমিক আহত, সীমান্তজুড়ে নতুন উদ্বেগ সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ রামগড় থানার এসআই ঈদগাঁও মাইজ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত জাম গাছ থেকে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু পর্যটকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার ভূয়া গনবিজ্ঞপ্তিতে কান দিবেন না- বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরকলের সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ে ১২ বিজিবির ফ্রী চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদান; ফ্রি সেবা পেল ১২৯ জন অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে পরপুরুষের সাথে নিজের স্ত্রী; স্বামীর সংবাদ সম্মেলন আগামী ২৮ জুন/২৬ প্রথম রাউন্ডে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে বর্ণিল আয়োজনে বিলাইছড়ি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়

বিলাইছড়িতে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য শীতের জমে উঠেছে ভাপা পিঠা বিক্রি

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধিঃ

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধিঃ

পার্বত্য অঞ্চলে গ্রামাঞ্চল ও বাজার  এলাকায় জমে উঠেছে শীতের  ভাপা  পিঠা-পুলির বিক্রির ধূম।এদেশের পাহাড়েরও  বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে নানান জাতের পিঠাপুলি তৈরী হয়ে থাকে। বিশেষ করে,শীত মৌসুমে গ্রামগঞ্জে পিঠা তৈরীর ধুম পড়ে যায়। পিঠা শুধু লোকজ খাবার নয়, এর সঙ্গে মিশে আছে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য । আধুনিকতার ছোঁয়ায় পারিবারিক ও সমাজজীবন থেকে পিঠা তৈরির আয়োজন কমে যাচ্ছে। তবে এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে একশ্রেণির মৌসুমী নারী-পুরুষ ব্যবসায়ী৷ অনেক খাবারে আকৃষ্ট হয়ে ছুটে আসে পাহাড়ীদেরঐতিহ্য নানা পিঠা খেতে ছুটে আসে। সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাপা পিঠা  শীতের আমেজকে রাঙিয়ে  তুলে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিলাইছড়ি বাজার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে।  এছাড়াও ধূপ্যাচর, দীঘলছড়ি, বহলতলী, তক্তানালা, ফারুয়া বাজার সহ  অলি-গলিতে রাস্তার ফুটপাতে চলছে বাহারী পিঠা বিক্রির ধুম। প্রতিটি ভাপা পিঠার  দোকানেই ক্রেতার সংখ্যা বেশি। ধোঁয়া ওঠা গরম পিঠায় আড্ডা জমে উঠে পিঠার দোকানে। গ্রামাঞ্চলের মৌসুমি পিঠার ভ্রাম্য দোকানগুলোর অধিকাংশই পরিচালিত হয় নারীদের মাধ্যমে।রয়েছে পুরুষরাও। সংসারে পুরুষের পাশাপাশি উপার্জনে বাড়তি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য দিন দিন বেড়েছে নারীদের এই পিঠার দোকান। এতে করে সংসারে কিছুটা বাড়তি উপার্জন হচ্ছে।

 

অনেক দোকানে ভাপা পিঠার পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে (স্থানীয় ভাষায়) সান্যপিদা,কলা পিদা,বরাপিদা, বিনিহগা ও অন্যান্য পিঠাও। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। এসব পিঠার স্বাদ পেতে পথিক , দিনমজুর, শিশু-কিশোর, ছুটির দিনে চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী সব শ্রেণি-পেশার মানুষই পিঠার দোকানে ভিড় করছে। আবার কেউ কেউ বাড়িতে পরিবারের জন্যও পিঠা কিনে নিয়ে যান। এসব পিঠার মধ্যে ভাপা  ১০ টাকায় বিক্রি হয়। পিঠা কিনতে  আসা কয়েকজন   জানান,  ভাপা পিঠা খেতে ভালো লাগে। এটা গরমের সময় ততটা খাওয়া যায় না। সাত সকালের সময় পিঠার জন্য দোকানে সিরিয়াল দেওয়া লাগে। দুই একজন  ভাপা পিঠা খেতে আসা ব্যক্তি বলেন, বান্ধুবীদের  সঙ্গে ভাপা পিঠা খেতে এসেছি ৷বিনি চালের গুড়া, নারিকেল আর গুড়ের ভাপা পিঠা ছাড়া শীত জমে না। পিঠা বিক্রেতা মো: বাচ্চু মিয়া জানান,শীতকালে  সঙ্গে ভাপা পিঠাও প্রচুর বিক্রি হয়। শীতের দিনে গরমের যন্ত্রণা থাকে না। লোকজন শান্তি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে খেতে পারে। এ কারণে শীতে বছরের অন্য সময়ের চেয়ে পিঠা বিক্রি দুই থেকে তিনগুণ বাড়ে।শুধু ভাপা পিঠা বিক্রি করে সংসার চলে।

 

আরেক পিঠা বিক্রিদাতা জানান, শীত আসতেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। পিঠা বানানো থেকে সবকিছু করতে হয়। ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত সময় পার হয়। তিনি ২ টি চুলায় পিঠা তৈরি করেন। প্রতিদিন সকালে বিক্রি করি বিকালেও মাঝে বিক্রি করি।  এধরনের পিঠা সংসার ভরণ পোষণ চালিয়ে যেতে দেখা যায়। রাস্তা ধারে কোনায় খোলা আকাশের নিচে পাহাড়ি নারীরাও এসব শীতের পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছে দৃশামান। অন্য দিকে পাহাড়ের জীবিকা নির্বাহ  এক সংগ্রাম অবিচল জীবন জনগোষ্ঠীর বসবাস করছি। পিঠা বিক্রেতারা জানান, বছরের এই সময়টা শীতকালীন পিঠার বেচা-বিক্রি বেশি হয়। তাইতো এই সময়ে দোকানিরা স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন যাপন করতে পারেন। শীত যত বাড়বে তাদের পিঠা বিক্রিও ততো বাড়বে।তাদের পিঠা বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলে মেয়েদের পড়া লেখার খরচ যোগান দেন বলে তারা জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *