April 28, 2026, 2:27 pm
শিরোনাম :
ঈদগাঁও ও চৌফলদন্ডীতে পৃথক ঘটনায় নিহত ২  পোকখালী ও চৌফলদণ্ডীতে অবস্থিত ৬০ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পে নাশকতা হাতি দেশের সম্পদ এদের রক্ষায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে… পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়া এমপি প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে: রাঙ্গামাটিতে দীপেন দেওয়ান এমপি রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের উপর সন্ত্রাসী হামলা; নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রাঙামাটি প্রেস ক্লাব কাপ্তাইয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ প্রকল্প পরিদর্শনে কানাডিয়ান হাইকমিশনার বাঘাইছড়িতে বোরো ধান কাটায় ব্যাস্ত সময় পাড় করছে কৃষক, ভালো ফলনের মাঝেও আবহাওয়ার শঙ্কা, খরচ ও বাজারমূল্যে দুশ্চিন্তায় কৃষক খাগড়াছড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপের জমজমাট ফাইনাল, দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন এপিবিএন শ্মশানে কুঁড়িয়ে পাওয়া সেই নবজাতকের নতুন ঠিকানা চট্টগ্রামের ‘ছোটমনি নিবাস দুর্গম কুরুকপাতায় টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নিরাপত্তায় রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কৃষকের উন্নতির কথা ভেবেই জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি নিয়েছিলেন — দীপেন দেওয়ান এমপি বরকলে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবপাচার প্রতিরোধে গবেষণা ফলাফল যাচাইকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত লামায় তাপদাহে অসুস্থ ১৮ শিক্ষার্থী, হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা সাজেকে ইয়াবা ও গাঁজা সহ চারজনে আটক করেছে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর – মৃত্যুর কাছে হেরে গেলো অর্ধশত বয়সী হাতিটি
Notice :

দুর্গম কুরুকপাতায় টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নিরাপত্তায় রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

Reporter Name

মো.জয়নাল আবেদীন, আলীকদম

বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা এলাকায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে এক অনন্য জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা ও সার্বিক সহায়তা নিশ্চিত করে প্রশংসিত ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকেই কুরুকপাতা বাজারস্থ কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচি সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে টিকা প্রদান করা হচ্ছে। প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রায় ২০০ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।

একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য চালু করা হয়েছে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প, যেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নারী, পুরুষ ও প্রবীণদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ এবং ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩৫ জন রোগী এ ক্যাম্প থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন, যা দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তুষ্টি সৃষ্টি করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. হাসানের নেতৃত্বে ২ জন চিকিৎসক, ১ জন মেডিকেল সহকারী এবং ৩ জন নার্সের সমন্বয়ে গঠিত একটি দক্ষ মেডিকেল টিম পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে পুরো কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

দুর্গম এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতায়াত ব্যবস্থায় সহায়তা প্রদান, বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় সাধন এবং স্থানীয় জনগণের পাশে থেকে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সেনাসদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে আলীকদম জোনের মেন্দনপাড়া আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করে পুরো কর্মসূচিকে নির্বিঘ্ন ও সফল করে তুলেছেন।

এ প্রসঙ্গে আলীকদম সেনাজোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মো. আশিকুর রহমান আশিক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময় জনসেবামূলক কার্যক্রমে পাশে থেকে কাজ করে এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে, যাতে পাহাড়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় থাকে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণও এ উদ্যোগকে আরও গতিশীল করেছে, যা বেসামরিক প্রশাসন, স্থানীয় নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, শিশুদের প্রাণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, জনকল্যাণমুখী এ ধরনের কার্যক্রমে সেনাবাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ পার্বত্য অঞ্চলে আস্থা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের বার্তা আরও সুদৃঢ় করছে।