
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ও বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, পরিসংখ্যান অফিস, সমবায় অফিস, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, এলজিইডির প্রকৌশলীর কার্যালয়, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইনস্ট্রাক্টর পদ এবং আইসিটি বিভাগেও কোনো স্থায়ী কর্মকর্তা কর্মরত নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও পরিসংখ্যান অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তর প্রায় ৯ থেকে ১০ বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এসব দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সরকারি কর্মকর্তা রাজস্থলীতে পদায়নে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। কোনো কর্মকর্তা বদলি হয়ে এলেও বিভিন্ন কারণে অনেক সময় তারা যোগদান এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থেকে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, একটি উপজেলার এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘ সময় শূন্য থাকা জনসেবার মানকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। তারা দ্রুত শূন্য পদগুলোতে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, “রাজস্থলী উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর বর্তমানে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আমিও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হলে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হবে।”
এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে। স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিত করা হলে রাজস্থলীর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও কমবে।