শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাঘাইছড়িতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে জেলা প্রশাসনের সহায়তা আকস্মিক বিলাইছড়ি উপজেলা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী কাপ্তাইয়ের চিৎমরম মুসলিম পাড়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল বান্দরবানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া সামগ্রী, কৃষকদের পাওয়ার টিলার ও নারীদের সেলাই মেশিন বিতরণ পার্বত্যাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে- ব্যারিস্টার মীর হেলাল এমপি লংগদুতে যৌথ অভিযানে ৯ জন আটক, পাঁচজনের রোহিঙ্গা পরিচয় স্বীকার বান্দরবানে পার্বত্য মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা: শান্তি-সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে সমন্বয়ের তাগিদ মাটিরাঙ্গায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী রাঙ্গুনিয়ায় শাশুড়বাড়িতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ স্বজনদের গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ ও সমৃদ্ধ পার্বত্য অঞ্চল গঠনে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ. . .বান্দরবানে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু গুইমারা আবাসিক ছাত্রাবাস ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমা সড়ক নির্মাণসহ জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পার্বত্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে… পার্বত্য মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ধান উৎপাদন কলাকৌশল বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ কাপ্তাই পাল্পউড বাগান বিভাগ কর্তৃক বিনামূল্যে ১৮ হাজার ৬০০ চারা বিতরণ রাজস্থলীতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন মাটিরাঙ্গায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণ

রাঙামাটিতে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা, বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা

Reporter Name

দেবদত্ত মুৎসুদ্দী, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটি জেলায় এবার আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে জেলার আমচাষিদের মুখে ফিরেছে স্বস্তি ও আনন্দ। পাহাড়ি ঢালু জমিতে উৎপাদিত এসব আম ইতোমধ্যে স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলার দুর্গম ও প্রত্যন্ত উপজেলা থেকে চাষিরা ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহার করে আম রাঙামাটি শহরের বাজারগুলোতে নিয়ে আসছেন। শহরের বনরূপা সমতাঘাট বাজার, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি বাজার ও কলেজ গেট এলাকার বাজারে প্রতিদিনই পাহাড়ি আমে ভরে উঠছে আড়ত ও খুচরা বাজার।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ে বাণিজ্যিকভাবে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে আম্রপালি ও রাঙ্গুই জাতের আম। এ বছর দুই জাতের আমের ফলন আগের বছরের তুলনায় অনেক ভালো হয়েছে। পাশাপাশি রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দুইজন আমচাষি জানান, তারা এবছর আম্রপালি ও রাঙ্গুই আমের ভালো ফলন পেয়েছেন। দুর্গম এলাকা থেকে প্রায় ২০০ মণের বেশি আম সংগ্রহ করে তারা শহরের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আম ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

স্থানীয় খুচরা বিক্রেতা জোনাকি চাকমা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রচুর আম আসছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি। তিনি দাবি করেন, এবারের আমে কোনো ধরনের ফরমালিন ব্যবহার করা হয়নি। আম্রপালি ও রাঙ্গুই আম খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে রাঙামাটির উৎপাদিত আম প্রতিদিন ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং পরিবহন সার্ভিসের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বাজারে আমের সরবরাহ বেশি হওয়ায় চাহিদা মেটানো সহজ হচ্ছে। ফরমালিনমুক্ত ও স্বাদে ভিন্ন হওয়ায় রাঙামাটির আমের আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে।

রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান জানান, জেলায় মোট ৩ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে সম্ভাব্য উৎপাদন ৪০ হাজার মেট্রিক টন এবং সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২৫০ কোটি টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হয়েছে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। জেলার বেশিরভাগ আমচাষই পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা কষ্টসাধ্য হলেও ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। রাঙামাটির আম ছাড়াও কাঁঠাল, আনারস ও কলা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পুষ্টি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকার কৃষিখাতে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *