
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলা নির্বাচন অফিসে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই জোরদার করা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ নতুন ভোটার নিবন্ধনে তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা এবং সন্দেহজনক আবেদনগুলো মাঠপর্যায়ে যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র ও সন্দেহজনক আবেদনের পাশাপাশি অযোগ্য ব্যক্তির ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের স্বশরীরে নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবককে সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য ও নথি অনলাইনে যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো আবেদন বা নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা সরেজমিনে যাচাই করে প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটার তালিকায় কোনো অযোগ্য বা ভুয়া ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি ঠেকানোর পাশাপাশি প্রকৃত নাগরিক যেন অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ যাচাই, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
তাদের মতে, ভোটার তালিকা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই যাচাই-বাছাইয়ে কিছুটা বেশি সময় লাগলেও সঠিক নাগরিককে সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির স্বার্থে প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে কোনো মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি নির্বাচন অফিসের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সেবা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নির্বাচন অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ দালালের প্রলোভনে পড়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেন। পরে ওই অতিরিক্ত ব্যয়কে নির্বাচন অফিসের সেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। অথচ নিয়ম অনুযায়ী অফিস থেকে সেবাপ্রত্যাশীদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। দালালের মাধ্যমে সেবা নেওয়ার প্রয়োজন নেই; নির্ধারিত নিয়মে সরাসরি নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ বলেন, “অতীতে কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি বিস্তারিত জানি না। তবে আমার সময়ে জনগণের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত আছি। সবার জন্য সমানভাবে সেবা দিতে চাই। জালিয়াতি, ভুল তথ্য ও অযোগ্য ব্যক্তির ভোটার হওয়ার সুযোগ বন্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা ভোটার হতে আগ্রহী, তাদের স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অভিভাবককে সঙ্গে রাখার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান কার্যক্রমে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে কিংবা অফিসের কোনো কর্মকর্তার সেবায় সমস্যা হলে তা সমাধানে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ভোটার নিবন্ধনে তথ্য যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকলে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি ও মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে সরাসরি সেবা গ্রহণের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।