
নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে স্বাভাবিক প্রসবের গুরুত্ব এবং সিজারিয়ানের যৌক্তিক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে খাগড়াছড়িতে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ (ইধহমষধফবংয ঐবধষঃয ডধঃপয) ও স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও এর সহযোগিতায় এবং ঝবিফবহ ঝাবৎরমব-এর সহায়তায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাবের-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও স্বাস্থ্য বিভাগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম সুমন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফারুক আবদুল্লাহ, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আশুতোষ চাকমা, খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. জয়া চাকমাসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
বক্তারা বলেন, দেশে দিন দিন অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান প্রসবের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসাগত জটিলতা না থাকলে স্বাভাবিক প্রসবই মা ও শিশুর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযোগী পদ্ধতি। অযৌক্তিক সিজারিয়ান অপারেশন ভবিষ্যতে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে।
তাঁরা আরও বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে স্বাভাবিক প্রসববান্ধব পরিবেশ তৈরি, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা এবং জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সহসভাপতি অংপ্রু মারমা। এ সময় বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের একজন বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি নিরাপদ মাতৃত্ব ও সিজারিয়ানের যৌক্তিক ব্যবহার বিষয়ে একটি তথ্যভিত্তিক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার এবং সেবার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।