
পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এলপি গ্যাসের মূল্য তদারকিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এতে সংগঠনটি তিনটি মূল দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে – সকল পণ্যের ক্রয় রশিদ বাধ্যতামূলক করা, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সমন্বিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা এবং এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পূর্ববর্তী বছরগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এর অন্যতম কারণ হিসেবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ক্রয় রশিদ সংরক্ষণের অভাব ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকৃত ক্রয়মূল্য যাচাইয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়া। সিআরবি চায়, রমজান মাসে সকল ব্যবসায়ীর জন্য ক্রয় রশিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হোক, যাতে বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা – জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর আলাদাভাবে বাজার তদারকি করে। এতে কিছু এলাকা নজরদারির বাইরে থাকে। তাই সিআরবি জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে একটি সমন্বিত বাজার মনিটরিং টিম গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে। এতে জেলার সর্বত্র নজরদারি নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সিআরবি চায়, নির্ধারিত মূল্য কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
সিআরবি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ বলেন, “রমজান মাসে সাধারণ মানুষ যেন অতিরিক্ত দামের চাপের মধ্যে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সবার দায়িত্ব। বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।”
স্মারকলিপি হস্তান্তরের সময় সিআরবি খাগড়াছড়ি শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা, সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন সবুজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শিমুল দাশ ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্য মনিটরিং সম্পাদক মো. সাব্বিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, জেলা প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে রমজান মাসে খাগড়াছড়ির বাজারে ন্যায্যমূল্য বজায় থাকবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারবেন।