সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাঙ্গুনিয়ায় এসএসসি ও সমমানের পাসের হার ৫৩.৫৫%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন সেনাবাহিনীর উদ্যোগে গুইমারায় ১০ দিনব্যাপী চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ শুরু মাটিরাঙ্গার পাহাড়ি জনপদে সেনাবাহিনীর সেতুবন্ধন, নির্মিত হলো ২ বাঁশের সাঁকো ভারত ও মায়ানমারের মাদকে ধ্বংস হচ্ছে দেশের যুবসমাজ- মাদক বিরোধী কর্মসূচিতে বক্তারা গুইমারায় এসএসসি ও সমমানে বিপর্যয়কর ফলাফল, ৫ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩৪.৬২ শতাংশ ঈদগাঁওতে জিপিএ- ৫ পেয়েছে ৪০ জন খাগড়াছড়িতে এসএসসির ফল বিপর্যয়, পাসের হার ৩৫.৫৬%, দাখিলে পাসের হার ৫২.৮ শতাংশ ৩৭ বিজিবি জোনের আয়োজনে লংগদুতে ‘জোন কমান্ডার্স কাপ ফুটবল’ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন বান্দরবানের লালব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বালিবাহী ডাম্পার ট্রাক উল্টে চালক নিহত রাজস্থলীতে এসএসসি ফলাফল বিপর্যয়; জিপিএ-৫ পায়নি একজনও বিলাইছড়িতে জিপিএ ৫ পেয়েছে তানজিলা আহাম্মদ বৃষ্টি; পাসের হার ৩২.৭৬ % ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমপির উদ্যোগে মাটিরাঙ্গায় জরাজীর্ণ স্কুল ভবনের নতুন রূপ কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়িকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাঘাইছড়িতে ২১ লাখ টাকার অবৈধ কাঠ জব্দ বান্দরবান রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১০ দিনের চিকিৎসা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ

পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে জ্ঞানের আলো: সীমানা পাড়া সা কৗতা লাইব্রেরি উদ্বোধন

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।

খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ সীমানা পাড়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সম্প্রদায়ের শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কৃতিচর্চার লক্ষ্যে সোমবার (২মার্চ ২০২৬) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো সীমানা পাড়া সা কৗতা লাইব্রেরি।

লাইব্রেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কার্যনির্বাহী পরিষদের গ্রন্থাগার ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ধনলাল ত্রিপুরা, এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ও নয় মাইল ত্রিপুরা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা। তিনি লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান পর্যন্ত কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক, ত্রিপুরা সনাতনী গীতা সংঘের উপদেষ্টা প্রভাংশু ত্রিপুরা, যিনি বলেন,”লাইব্রেরি শুধু বই বা ঘর নয়; বইয়ের ভেতরে থাকে জ্ঞান। বর্তমান যুগের যুব সমাজই নির্ধারণ করবে আমাদের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত উত্তরাধিকার।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা কানকা নন্দ ত্রিপুরা, উপদেষ্টা কৃষ্ণ কিশোর ত্রিপুরা এবং উপদেষ্টা ও সীমানা পাড়ার কার্বারী চয়ন ত্রিপুরা। কানকানন্দ ত্রিপুরা শিক্ষার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন,”যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার বিকল্প নেই। গ্রামীণ লাইব্রেরিই হতে পারে শিক্ষার মূল ভিত্তি।”

কৃষ্ণ কিশোর ত্রিপুরা বলেন,”লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের ভান্ডার। ধানের গোলা কমতে পারে, কিন্তু শিক্ষার গোলা কখনো কমে না।”

চয়ন ত্রিপুরা আবেগভরে যোগ করেন,”লাইব্রেরি শুধু বই রাখার স্থান নয়; এটি শেখার, স্বপ্ন বোনার ক্ষেত্র।”

সাংস্কৃতিক পর্বে নীলয় ত্রিপুরা-র বাঁশির সুর এবং নৃত্য পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

লাইব্রেরিটি ইতোমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে — জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রকল্প, পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘বৈসু উৎসবে কাপড় বোনা প্রতিযোগিতা’। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে লাইব্রেরিতে সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ছুটিকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না, যা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *