
রাঙামাটির সবুজ পাহাড়ে ঝলমল করছে রসালো ‘হানিকুইন’ আনারস। স্থানীয়রা এই সোনালি ফলকে ‘পাহাড়ের হলুদ সোনা’ নামে ডাকছেন। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়ায় এটি শুধু আয়ের উৎস নয়, পাহাড়ি কৃষকদের জীবনমান বদলাচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে রাঙামাটিতে আনারস চাষের লক্ষ্য ২,৫৫০ হেক্টর। নানিয়ারচর উপজেলা তাই ‘আনারসের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আনারসের মৌসুম হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ও হরমোন ব্যবহারের ফলে এখন নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকেই বাজারে আগাম আনারস আসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙামাটি শহরের বনরূপা সমতাঘাট, পুরাতন বাসস্টেশন ঘাট ও নানিয়ারচর হাটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌকায় আনারস নিয়ে হাটে ভিড় করছেন। আকারভেদে প্রতি আনারস ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে আনারস সংগ্রহ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাচ্ছেন।
নানিয়ারচর উপজেলা কৃষক পুতুল চাকমা বলেন, “ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় হানিকুইন আনারস চাষ বেশি লাভজনক। হেক্টরপ্রতি ১,০০০ু১,৫০০ আনারস উৎপাদিত হয়। খরচ বাদ দিয়ে এক একর জমি থেকে শীতকালেও প্রায় ১ লাখ টাকা আয় সম্ভব।”
তবে সংরক্ষণাগারের অভাবে কম দামে বিক্রি করতে হয়, যা কৃষকদের লোকসান দেয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “পাহাড়ের পতিত জমিগুলো আনারস চাষের জন্য উপযোগী। কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠলে কৃষকরা আরও বেশি লাভবান হবেন।”
হানিকুইন আনারস আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি ও বাজারে চাহিদাসম্পন্ন। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে আগাম উৎপাদন সম্ভাবনা কৃষকদের জন্য নতুন লাভের সুযোগ সৃষ্টি করছে।