বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নানিয়ারচরে রেকর্ড ৭৭টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হলো রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ঈদগাঁওতে অভিবাসন বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত খাগড়াছড়িতে ৫০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন কারাগারে প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান, খাগড়াছড়িতে ‘প্রকৃতি’র মোড়ক উন্মোচন বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আবেদন লামায় ১১ মাস পর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক-প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসেবা আরও কার্যকর হবে: ইউএনও মিশকাতুল তামান্না মহালছড়িতে একমাত্র A+ পাওয়া টুম্পা চাকমাকে উপজেলা প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার স্তূপ, ব্যাহত নৌযান চলাচল মহালছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও করণীয় নিয়ে অংশীজন সভা শান্তি-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার প্রত্যয়ে লক্ষীছড়ি জোনের ১০ বছর সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে মানিকছড়িতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটিতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

বিলাইছড়িতে শিমুল গাছ বিলুপ্তির আশঙ্কা

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধি।।

বিলাইছড়ি উপজেলা, গোডাউন, হাসপাতাল ও ক্লোনি এলাকায় এখনও কিছু বড় শিমুল গাছ চোখে পড়ে। এসব গাছ প্রায় ১২ু১৮ ফুট উঁচু এবং বসন্তের সময় ফুলে ভরে যায়। গাছে বসে থাকা শালিক, ফিঙে, ঘুঘু, কাক ও চড়ুইসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কিচির-মিচিরে পুরো এলাকা মুখরিত থাকে। স্থানীয়রা বলছেন, শিমুল ফুল বসন্তের আগমনের বার্তাবাহক হিসেবে পরিচিত।

তবে কয়েক দশক ধরে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে গ্রামাঞ্চলের শিমুল গাছ ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় বয়স্করা জানাচ্ছেন, আগে গ্রাম ও সরকারি রাস্তায় প্রচুর শিমুল গাছ ছিল, যা বসন্তের রঙিন ছবি ফুটিয়ে তুলত। বর্তমানে উপজেলা ও বাজার এলাকায় ৫ু৭টি বড় শিমুল গাছ থাকলেও গ্রামে তা পাওয়া কম। কৃষি আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় ফুলের সংখ্যা থাকলেও চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের শিমুল কমে গেছে।

শিমুল গাছ বসন্তের শুরুতে ফুল ফোটায় এবং চৈত্র মাসের শেষে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসে ফল পেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। শিমুল তুলা প্রাকৃতিকভাবে আহরণ করা হয় এবং এটি পাখি ও মানুষের খাদ্যসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হয়। স্থানীয়রা বলছেন, ছোটবেলায় বাড়ির লেপ, বালিশ ও তোশক তৈরিতে শিমুল তুলা ব্যবহার হতো।

গাছের উজাড়ের কারণে পাখিরা বাসা হারাচ্ছে এবং ধীরে ধীরে কিছু প্রজাতি কমে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল সরকার ও কৃষি বিভাগের উদাসীনতাকে বিলুপ্তির কারণ হিসেবে দেখছেন। তারা শিমুল চারা রোপণ, সরকারি খাস জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তার ধারে শিমুল গাছ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক বড় শিমুল গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে স্থানীয়দের কয়েক হাজার টাকা আয় সম্ভব এবং ঔষধি গাছ হিসেবে এর গুরুত্ব রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে শিমুল গাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ ও অর্থনৈতিক উভয়ভাবেই উপকার হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *