বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নানিয়ারচরে রেকর্ড ৭৭টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হলো রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ঈদগাঁওতে অভিবাসন বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত খাগড়াছড়িতে ৫০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন কারাগারে প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান, খাগড়াছড়িতে ‘প্রকৃতি’র মোড়ক উন্মোচন বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আবেদন লামায় ১১ মাস পর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক-প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসেবা আরও কার্যকর হবে: ইউএনও মিশকাতুল তামান্না মহালছড়িতে একমাত্র A+ পাওয়া টুম্পা চাকমাকে উপজেলা প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার স্তূপ, ব্যাহত নৌযান চলাচল মহালছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও করণীয় নিয়ে অংশীজন সভা শান্তি-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার প্রত্যয়ে লক্ষীছড়ি জোনের ১০ বছর সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে মানিকছড়িতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটিতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

লামায় বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি গ্রামে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।

পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামা উপজেলায় বন্যহাতির তাণ্ডবে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড খেদারবান–সুতাবাদী নয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একাধিক বন্যহাতির দল নিয়মিতভাবে লোকালয়ে নেমে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একটানা কয়েক রাত ধরে বন্যহাতির একটি পাল কলাগাছ, আলু, সিমসহ বিভিন্ন সবজি ক্ষেত আক্রমণ করে। হাতির দল ক্ষেতের ফসল খেয়ে ও পায়ের চাপে মাড়িয়ে নষ্ট করায় অনেক কৃষক চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ সঙ্গীয় বনরক্ষী দল, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

গ্রামবাসীরা জানান, জানমাল ও ফসল রক্ষায় তারা রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাচ্ছেন। দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে অবস্থান করলেও সন্ধ্যা নামলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। ফসল রক্ষায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হই-হুল্লোড় করে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বন্যহাতির আক্রমণে আমার কলাগাছ ও সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে এক লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। পরিবার নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছরই বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটাচ্ছে। অথচ হাতির উপদ্রব রোধে এখনো কার্যকর ও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে।

লামা ডলুছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল্লাহ বলেন, “বন্যহাতির পাল দিনের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। সন্ধ্যা হলেই তারা খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় আমাদের টিম নিয়মিত তৎপর রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত না করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, কলাগাছ হাতির প্রধান খাদ্য হওয়ায় কলাবাগান এলাকাগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, বন্যহাতির আক্রমণ থেকে মানুষ ও ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধান গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *