বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুর্গম ধূপপানি পাড়ায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে ‘ধূপপানি শিশুকানন সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় মাঠে বিজিবি, খাগড়াছড়ি সেক্টরে মোতায়েন ৬ প্লাটুন মধ্যরাতে রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জারের অভিযানে সেগুন কাঠবোঝাই গাড়ি আটক দুর্গোৎসব উপলক্ষে ৬ দিনের জন্য স্থগিত সাজেক সড়ক অবরোধ গুইমারায় প্রেসক্লাবের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির মতবিনিময়, সাংবাদিকদের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস অবশেষে লামায় হতে নিখোঁজ চার দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার তিন শিক্ষার্থী নাইক্ষ্যংছড়িতে লেবুর বস্তায় ইয়াবা ৯৯ হাজার ৬৪০ পিস; যার মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা লামায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু হলো ইকোকার্ডিওগ্রাফি সেবা, হৃদ্‌রোগ নির্ণয়ে বাড়তি সুবিধা খাগড়াছড়ির ৬৮ পূজামণ্ডপে ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অনুদান খাগড়াছড়িতে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত লক্ষীছড়িতে ১৫ প্রান্তিক খামারিকে প্রাণিসম্পদ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিল সেনাবাহিনী মহালছড়িতে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত দ্বিতীয় দফায় সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার মানুষ পানছড়িতে ছয় পূজামণ্ডপে ৩ বিজিবির আর্থিক অনুদান ঈদগাঁওয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রেড ক্রিসেন্টের সচেতনতামূলক কর্মসূচি ঈদগাঁওতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রেড ক্রিসেন্টের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি

অবশেষে লামায় হতে নিখোঁজ চার দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার তিন শিক্ষার্থী

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামা উপজেলায় রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরীকে চার দিন পর চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টা থেকে রাত সাড়ে ৫ টার মধ্যবর্তী সময় সিএমপির খুলশী থানাধীন ২নং রোড ১০১ নং বাসার সাইফুল ইসলাম পিতা সাবের আহমদ মাতা তসলিমা বেগম এর বাসা হইতে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪) এবং খুলশী টাউন সেন্টার কংকর্ড টাওয়ার এর ১২ ই বাসার নাসির উদ্দিন পিতা মৃত মোহাম্মদ আলী মাতা মৃত মমতাজ বেগম এর বাসা হইতে রেশমি আক্তার (১৭), তানিয়া সুলতানা (১৩) কে  উদ্ধার করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।উদ্ধার হওয়া তিন কিশোরী হলো লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়ার বাসিন্দা আবুল হাশেমের মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১৩), শহিদুল ইসলামের মেয়ে রেশমি আক্তার (১৭) ও বেলাল উদ্দিনের মেয়ে হালিমাতুচ্ছ সাদিয়া (১৪)। তাদের মধ্যে তানিয়া ও সাদিয়া ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। রেশমি ওই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর সকালে রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় রেশমি আক্তার। পরে তার সঙ্গে অন্য দুই কিশোরীও বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।এ ঘটনায় মঙ্গলবার লামা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।পুলিশ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানাধীন ২ নম্বর রোডের একটি বাসা এবং খুলশী টাউন সেন্টারের কনকর্ড টাওয়ারের আরেকটি বাসা থেকে পৃথকভাবে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা সেখানে বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য অবস্থান করছিল।এদিকে, কিশোরীদের নিখোঁজ হওয়ার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, রেজিস্ট্রেশন কার্ড আনতে যাওয়ার কথা বলে তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।

চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুলাল কান্তি শর্মা জানান, রেশমি আক্তারসহ তিন কিশোরী তার বিদ্যালয়ে যায়নি। রেশমি ওই বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। চলতি বছর সে লামার ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। গত ১২ অক্টোবর রেশমির মামা পরিচয়ে এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ে এসে তার বিষয়ে খোঁজখবর নিলে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন।ইয়াংছা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিল। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা সর্বশেষ নিজ নিজ শ্রেণিতে উপস্থিত ছিল। এরপর থেকে তারা আর বিদ্যালয়ে আসেনি। সোমবার অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি জানা যায়।

বান্দরবান পুলিশ সুপার মোহা. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ১৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানা এলাকার দুটি বাসা থেকে তিন কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা বাসাবাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজের জন্য সেখানে অবস্থান করছিল। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।একসঙ্গে তিন কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা-অংহ্লারী পাড়া এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। চার দিন পর তাদের উদ্ধারের খবরে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে জানান তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *