
মোঃ আব্দুজ জাহের, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এতে সাজেকের অভ্যন্তরীণ সড়কসহ খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা।
সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। হাটের দিনেও যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কমেছে। পরিবহন সংকটে জুমচাষিরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে সাজেকের ওজোবাজার এলাকায় অবরোধকারীরা নিরাপত্তা বহরের পথ আটকে দেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর বহরটিকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হলেও বুধবার থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়।
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের মধ্যে সংঘাত চলছে। বিভিন্ন সময়ে সংগঠন দুটির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সাজেকের এক জনপ্রতিনিধি।
সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯)। ধারাবাহিক সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।
অন্যদিকে সাজেক সড়ক খুলে দেওয়ার দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা সড়ক অবরোধ নিরসনে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন।
সড়ক অবরোধের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা, স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ কমানো এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।