
স্টাফ রিপোর্টার।।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৬৮টি পূজামণ্ডপে ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া।
অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, অনুদান বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। ধর্মীয় উৎসবের পবিত্রতা ও সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রেখে সুন্দরভাবে পূজা উদ্যাপন করতে হবে। এ আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।
একই অনুষ্ঠানে সাজেক সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালনকারীদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, কোনো সমস্যা থাকলে প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সড়ক অবরোধের কারণে মানুষের চলাচল ও আয়ের উৎস যেন বন্ধ না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। পাহাড়কে উন্নয়নমুখী করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন এই সংসদ সদস্য।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দুর্গাপূজা উপলক্ষে আর্থিক অনুদান বিতরণ কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের সদস্য ক্ষেত্র মোহন রোয়াজা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মো. নুরুল আবছার এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য।
এ সময় জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহফুজ, পরিষদের সদস্যরা এবং জেলা সদরে কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। জেলার পূজামণ্ডপগুলোর সংখ্যা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তমল দাশ লিটন।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, অনুদানের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৪৪টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ৪০ হাজার টাকা করে ১৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ‘বি’ ক্যাটাগরির ১৯টি মণ্ডপে প্রতিটিতে ২৫ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির পাঁচটি মণ্ডপে প্রতিটিতে ১০ হাজার টাকা করে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিন ক্যাটাগরিতে মোট ৬৮টি মণ্ডপের জন্য অনুদানের পরিমাণ ২২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।