মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বিনামূল্যে ৮ হাজার ৪০০ চারা বিতরণ কাপ্তাইয়ে গ্রাম পুলিশের মাঝে বাইসাইকেল ও পোশাক সামগ্রী বিতরণ ঘর নেই, স্বজন নেই—জরাজীর্ণ যাত্রী ছাউনিতে ৭৫ বছরের অসুস্থ জহুরা পেরাছড়ায় কমিউনিটি এডুকেশন ওয়াচ গ্রুপের ত্রৈমাসিক সভা পর্যটন সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে রাজস্থলীর ‘বড় ঝর্ণা’ খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ে বেকারদের জন্য বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ নতুন দায়িত্ব পেয়েই দীঘিনালায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্যবৃন্দরা ঈদগাঁওতে মাদকের সরঞ্জামসহ ১২ মাদকসেবী আটক ঈদগাঁওতে অবৈধ টমটম, অটোরিক্সা ও মোটর সাইকেলের বিরুদ্ধে একশন শুরু রাঙ্গুনিয়ায় পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত বান্দরবান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব গ্রহণ পানছড়িতে বিজিবির উদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামগ্রী বিতরণ, অসহায়কে চিকিৎসা সহায়তা লামায় ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ৯২ রোগী, বন্ধ অ্যাম্বুলেন্স সেবা আকস্মিক বন্যায় দীঘিনালায় ২৫ ঘর বিধ্বস্ত, ঝুঁকিতে অর্ধশতাধিক। বিলাইছড়িতে লেপ্রসি মিশনের উদ্যোগে কুষ্ঠ রোগবিষয়ক কর্মশালা

পাহাড়ের প্রত্যন্ত জনপদে জ্ঞানের আলো: সীমানা পাড়া সা কৗতা লাইব্রেরি উদ্বোধন

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।

খাগড়াছড়ি সদর ও দীঘিনালা উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ সীমানা পাড়ায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। সম্প্রদায়ের শিক্ষার বিস্তার ও সংস্কৃতিচর্চার লক্ষ্যে সোমবার (২মার্চ ২০২৬) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো সীমানা পাড়া সা কৗতা লাইব্রেরি।

লাইব্রেরি উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কার্যনির্বাহী পরিষদের গ্রন্থাগার ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক ধনলাল ত্রিপুরা, এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ও নয় মাইল ত্রিপুরা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপু ত্রিপুরা। তিনি লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠা থেকে বর্তমান পর্যন্ত কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক, ত্রিপুরা সনাতনী গীতা সংঘের উপদেষ্টা প্রভাংশু ত্রিপুরা, যিনি বলেন,”লাইব্রেরি শুধু বই বা ঘর নয়; বইয়ের ভেতরে থাকে জ্ঞান। বর্তমান যুগের যুব সমাজই নির্ধারণ করবে আমাদের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত উত্তরাধিকার।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা কানকা নন্দ ত্রিপুরা, উপদেষ্টা কৃষ্ণ কিশোর ত্রিপুরা এবং উপদেষ্টা ও সীমানা পাড়ার কার্বারী চয়ন ত্রিপুরা। কানকানন্দ ত্রিপুরা শিক্ষার গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন,”যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হলে শিক্ষার বিকল্প নেই। গ্রামীণ লাইব্রেরিই হতে পারে শিক্ষার মূল ভিত্তি।”

কৃষ্ণ কিশোর ত্রিপুরা বলেন,”লাইব্রেরি হলো জ্ঞানের ভান্ডার। ধানের গোলা কমতে পারে, কিন্তু শিক্ষার গোলা কখনো কমে না।”

চয়ন ত্রিপুরা আবেগভরে যোগ করেন,”লাইব্রেরি শুধু বই রাখার স্থান নয়; এটি শেখার, স্বপ্ন বোনার ক্ষেত্র।”

সাংস্কৃতিক পর্বে নীলয় ত্রিপুরা-র বাঁশির সুর এবং নৃত্য পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

লাইব্রেরিটি ইতোমধ্যে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম পরিচালনা করেছে — জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রকল্প, পানীয় জলের সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ এবং ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘বৈসু উৎসবে কাপড় বোনা প্রতিযোগিতা’। ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর পরিসরে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে লাইব্রেরিতে সোলার বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ছুটিকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না, যা কর্তৃপক্ষের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *