
তসলিম উদ্দিন, বরকল প্রতিনিধি।।
রাঙামাটির বরকল উপজেলার ৪ নম্বর ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদে নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকায় জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ইউনিয়নের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভূষণছড়া বাজারের দিন হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদে কিছুটা কার্যক্রম চলে। তবে সপ্তাহের অন্যান্য দিন পরিষদে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালিত হয় না বলে অভিযোগ তাঁদের। এতে দূরদূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা মানুষকে ফিরে যেতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীকে পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানান। তাঁদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদে একজন সচিব, একজন উদ্যোক্তা ও একজন তথ্যসেবা প্রদানকারী (কম্পিউটার অপারেটর) দায়িত্বে থাকলেও তাঁরা নিয়মিত অফিস করেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা কদর আলী অভিযোগ করেন, তথ্যসেবা প্রদানকারী (কম্পিউটার অপারেটর) মো. লিটনকে গত পাঁচ বছরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নিয়মিত দেখেননি তিনি। তাঁর দাবি, লিটন রাঙামাটি থেকে সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করেন এবং শুধু বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে আসেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. লিটন বলেন, তিনি শুধু বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যান এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসেন।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রূপায়ণ খীসার বিরুদ্ধেও নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম সওদাগর অভিযোগ করেন, রূপায়ণ খীসা নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে অফিস করেন না। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরির পাশাপাশি রূপায়ণ খীসা ঠিকাদারি কাজের সঙ্গেও জড়িত।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রূপায়ণ খীসা বলেন, তিনি বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করেন। স্থায়ী চেয়ারম্যান না থাকায় প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাঙামাটিতে অবস্থান করেন। ফলে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে তাঁকেও রাঙামাটিতে থাকতে হয়।
ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগের বিষয়ে রূপায়ণ খীসা বলেন, তিনি ঠিকাদারদের সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের আরেকটি অভিযোগ, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ জ্ঞানপ্রিয় চাকমা কীভাবে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জ্ঞানপ্রিয় চাকমার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমানে ৪ নম্বর ভূষণছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে কেউ না থাকায় প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বরকল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম।
ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ থাকা এবং কর্মীদের নিয়মিত অফিস না করার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রশাসক রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া বরকল উপজেলায় বর্তমানে স্থায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা না থাকায় এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনেরও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম নিয়মিত করা এবং সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন অভিযোগগুলো যাচাই করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।