
রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় সম্ভাব্য জেলা পরিষদ সদস্য পদ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকার কারণে কার্বারী সমিতির সভাপতি জয়সিন্ধু চাকমার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে শোনা যাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, তরুণ এই রাজনীতিবিদ দায়িত্ব পেলে এলাকায় উন্নয়নের গতি বাড়াতে এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে আদৌ জেলা পরিষদ সদস্য দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন মতও রয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এ উপজেলা থেকে চাকমা সম্প্রদায়ের পরিবর্তে অন্য কোনো সম্প্রদায় থেকে সদস্য দেওয়া হতে পারে। আবার অনেকে মনে করেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে যে কেউ দায়িত্ব পেতে পারেন এবং প্রয়োজনে একাধিক সদস্যও হতে পারে। তবে প্রার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন তা বলা কঠিন বলে মনে করছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী জয়সিন্ধু চাকমা বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, ১৯৯৯ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তৃণমূল দলের সভাপতি, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০১৮ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে থেকে সংগঠনকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জয়সিন্ধু চাকমা আরও বলেন, সামনে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন রয়েছে। এসব নির্বাচনে যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি দাবি করেন, বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে অতীতে চাকমা সম্প্রদায়ের একজনকে জেলা পরিষদ সদস্য করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে আর কাউকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাই এবারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তিনি এ পদে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।
সুযোগ পেলে শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, পর্যটন উন্নয়ন, কৃষি উন্নয়ন এবং প্রান্তিক জনগণের পাশে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
এ বিষয়ে ১২২ নম্বর কুতুবদিয়া মৌজার হেডম্যান সাধন বিকাশ চাকমা বলেন, জয়সিন্ধু চাকমা কার্বারী হওয়ার পর থেকে সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা কার্বারী সমিতির সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সক্রিয় একজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পেলে এলাকার সুষম উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, বিলাইছড়ি উপজেলার জেলা পরিষদ সদস্য পদটি সাধারণত অন্য সম্প্রদায়ের জন্য নির্ধারিত হলেও চাকমা সম্প্রদায়ের জন্য কোনো পদ বরাদ্দ হলে ব্যক্তি হিসেবে জয়সিন্ধু চাকমাকে অযোগ্য বলা যাবে না।
তবে এ বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, শেষ পর্যন্ত দলীয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে বিলাইছড়ি থেকে কে জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাবেন।