শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
১১ আর ই ব্যাটালিয়নের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ লামায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাঃ উইলিয়াম লুসাই মেমোরিয়াল হল উদ্বোধন মহিষখালী নিখোঁজ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ছাত্র জিফাত হাসানের সন্ধান চায় বাবা-মা পাহাড়ে সুপেয় পানি সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগে হাসি ফুটেছে পাড়ায় পাড়ায় চ্যাম্পিয়নস লিগে কাপ্তাইয়ের জয় একটি ডিও লেটারের অভাবে আটকে আছে আলীকদম চৌকি আদালত গোমতিতে বিএনপির ওয়ার্ড কমিটির পরিচিতি সভা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থাকার আহ্বান রাজস্থলীতে ঝুলন্ত সেতু, ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক সংঘ ও বাজার পরিদর্শন দুদকের মামলায় কারাগারে বান্দরবানের পিআইও, সাময়িক বরখাস্ত খাগড়াছড়িতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে র‌্যালী ও আলোচনা বাঘাইছড়িতে মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত পাকুয়াখালী গণহত্যা দিবস: ৩০ বছর পরও বিচারের দাবিতে স্বজনদের কর্মসূচি দীঘিনালায় প্রথমবার আখ চাষ, ৩-৪ লাখ টাকা আয়ের আশা বদন কুমার চাকমার রাঙ্গামাটিতে ৪২ মোবাইল ও ৭৭ হাজার টাকা উদ্ধার, মালিকদের কাছে হস্তান্তর ‘ম্যাডাম’ না বললে মেলে না চিকিৎসাসেবা—গুইমারায় ইসলামিক মিশন প্রধানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে রাজস্থলীতে সেনাবাহিনীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

পাহাড়ে সুপেয় পানি সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগে হাসি ফুটেছে পাড়ায় পাড়ায়

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, প্রতিনিধি:

পার্বত্য জেলার বান্দরবানের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৭ উপজেলায় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ এখন পানি আনতে পায়ে হেটে যেতে হচ্ছে না ঘন্টার পর ঘন্টা পায়ে হাটা ঝিরি ঝর্নার পথ, হাত বাড়ালেই বাড়ির পাশ থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে কলসি ভরে পানি পাওয়া সম্ভব,হাতে যথেষ্ট অবসর, আর তাই এই অবসরে ছক্কা খেলায় মেতেছে পাড়ার তরুনীরা,সুন্দর এই চিত্রটি জেলা সদরের যৌথখামার এলাকার, এলাকার মানুষের মুখে এই হাসি ফুটেছে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানির সমস্যা সমাধানে সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের কারনে। পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (DPHE) বাস্তবায়নে জেলার ৭টি উপজেলায় বিভিন্ন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির সংকট স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের সমস্যা হয়ে আছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ঝিরি, ছড়া ও প্রাকৃতিক জলাধারের পানির ওপর নির্ভরশীল মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। পাশাপাশি পাহাড়ি দুর্গমতার কারণে অনেক এলাকায় স্থায়ী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনও বড় চ্যালেঞ্জিং।এ পরিস্থিতিতে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ৭টি উপজেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের অবকাঠামো স্থাপন ও সম্প্রসারণের কাজ বাস্তবায়ন করছে। এর মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সরবরাহের বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পানির চাহিদা পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে গত দুই অর্থ বছরে ৪৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বান্দরবান জেলা সদর সহ ৭ টি উপজেলার ৮৫ টি পাড়ায় ১২ টি জিএফএস সংস্কার, ১০ টি জিএফএস নির্মাণ,জেলা ও উপজেলা মিলিয়ে আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫৮৩ টি রিং-ওয়েল স্থাপন,৮৫ টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল,৩০ টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।এছাড়া যে সকল দূর্গম এলাকায় পাথরের কারনে টিউবওয়েল বসানো সম্ভব হয়নি, সে সকল এলাকায় এই প্রকল্পের আওতায় রিং-ওয়েল স্থাপন করা হয়েছে।এছাড়া চলমান প্রকল্পের আওতায় জেলা ও উপজেলা মিলিয়ে ১৪০ টি রেইন হারবেস্টিং প্রজেক্ট নির্মাণ করা হয়। অনুসন্ধান সরেজমিনে বুধবার(১০ই সেপ্টেম্বর) জেলা সদরের তালুকদার পাড়া,বৌদ্ধ বিহার এলাকায় গেলে দেখা যায়,বাড়ির পাশেই এখন পানির কল,স্থানীয় বাসিন্দা, মংক্য প্রু মার্মা, বৌদ্ধ বিহার সভাপতি,সিংয় ইউ মারমা বলেন,সরকারের এই উদ্যোগে আমাদের পানির সমস্যা অনেকটা সমাধান হয়েছে।দীর্ঘদিন এলাকার মানুষ দূরবর্তী ঝিরি থেকে পানি সরবরাহ করে আনতে অনেকটা কস্ট সধ্য ও সময় লাগতো,এখন মিনিটের মধ্যেই বাড়ির পাশেই সুপেয় পানির ব্যাবস্থা করেছে সরকার,সুবিধা পাচ্ছে এলাকার ৫০ টি পরিবার। এচাড়া গোয়ালিয়াখোলা,দোয়াজা পাড়া এলাকার ৬৫ উর্ধ মহীলা হ্নাক্রা মার্মা বলেন,এই বয়সে দূর থেকে পানি আনা, আমার জন্য অনেক কষ্টের ছিলো,এখন আমি খুশি,বাড়ির পাশের টিউবওয়েল থেকে নিজে পানি সংগ্রহ কাটতে পারতেছি।একই চিত্র,রেইছা এলাকার,ডংখিংঅং পাড়ায়,স্থানীয় বাসিন্দা ইয়নু মারমা,বলেন এলাকায় টিউবওয়েল হওয়ায় ৫০ টি পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।জেলা সদরের যৌথ খামার এলাকার বাসিন্দা,তিতিউ মার্মা বলেন,যেখানে দৈনন্দিন কাজের জন্য,ঝিরিতে যাওয়া আশায় ঘন্টা চলে যেতো সেখানে এখন কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়ির পাশেই পানি পাচ্ছি,সরকার কে ধন্যবাদ, দিয়ে তিনি জানান এই সুবিধায় এখন এলাকার ৭০ টি পরিবারের মহিলা,বৃদ্ধ দের মুখে হাসি ফুটেছে,অবসর সময়টা গল্প করে, ছক্কা খেলায় পার করছে পাড়ার তরুনীরা।

সরকারের সংশ্লিষ্টরা জানান, পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই নিরাপদ পানি সরবরাহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোকে পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে পাহাড়ে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে কাজ অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানির সংকট দীর্ঘদিনের। সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের ফলে বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দূরবর্তী উৎস থেকে পানি সংগ্রহের কষ্ট অনেকটাই কমে এসেছে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ায় জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছেন। সরকারের এ উদ্যোগ সম্পুর্ন বাস্তবায়ন হলে বান্দরবানের লামায়, আলীকদম সহ মোট ৭ উপজেলার প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে নিরাপদ পানি সরবরাহের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন পাহাড়ের মানুষরা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বান্দরবান পৌর এলাকায় ইতোমধ্যে ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬৭টি হাউসহোল্ড টয়লেট, ৮৬৭ হাউসহোল্ড টয়লেট উন্নয়ন, ৫টি পাবলিক টয়লেট, ৮টি পাবলিক টয়লেট সংস্কার কাজ চলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি টয়লেটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষ স্যানিটেশন সুবিধায় আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।সূত্রে আরো জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বান্দরবানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করে।এর আওতায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলায় ১২টি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত, নতুন ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন, ৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়।এছাড়াও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি শৌচাগারও নির্মাণ করা হয়েছে।

চলমান ও বাস্তবায়িত প্রকল্পের বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে,বলেন,বর্তমান সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির দূর্দশা লাঘবের জন্য নানা মুখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।চলমান প্রকল্পের আওতায় ৭ টি উপজেলার জনসাধারণ বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সুবিধা পাবে,আমরা বেশ অনেকগুলো আবেদন পেয়েছি,যাচাই বাছাই করে আমরা প্রয়োজনীয় যে সব এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়ন জরুরী সে সকল এলাকায় টিউবওয়েল, রিং-ওয়েল,রেইন হারবে স্টিং,জিএফএস সংস্কার এবং নতুন জিএফএস স্থাপনের কাজ করেছি।অনেকেই সুবিধা না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,এক সাথে সব আবেদনের প্রেক্ষিতে গ্রাহকদের সেবা দিতে পারিনি,চাহিদার ভিত্তিতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আরেকটি প্রকল্পের অনুমোদনদের জন্য আবেদন করেছি।প্রকল্প অনুমোদন হলে পরবর্তীতে ঐ সকল সেবা গ্রহীতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *