
মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে তিন দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলায় ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার অভিযোগ নিয়ে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ‘বান্দরবানের লামায় ৪০ ইটভাটার জন্য পাহাড় ধ্বংস’ শিরোনামেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে জনস্বার্থে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে।
রিটের শুনানি শেষে আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। একই সঙ্গে পাহাড় কাটা বন্ধে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করে তিন দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী শাস্তি ও অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
আদালতের রুলে লামা উপজেলায় পাহাড় কাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, বান্দরবান জেলার পাহাড় কাটা ও ধ্বংস বন্ধে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ইতিমধ্যে কেটে ফেলা পাহাড় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
শুনানিতে রিটকারীর পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পাহাড় কাটা বা ধ্বংসের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের ১৫ ধারায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় পার্বত্য এলাকায় ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি আদালতকে জানান।
তিনি আরও বলেন, আদালতের বিভিন্ন নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পার্বত্য চট্টগ্রামে ইটভাটার জন্য পাহাড় কাটার ঘটনা ঘটছে, যা বন্ধ করা প্রয়োজন।
রিটে পরিবেশসচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও পরিচালক, বান্দরবানের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বান্দরবান আর্মি ক্যাম্প কমান্ডারসহ মোট ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষে ছিলেন এইচআরপিবির আইনজীবী মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী ও রিপন বারোই। শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল ও নাছরিন সুলতানা। সরকার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মো. হানিফ।