
মো. আবুল হাসেম, মাটিরাঙ্গা প্রতিনিধি।।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মুখর হয়ে ওঠে মাটিরাঙ্গার স্বাধীনতা সোপান। তাঁদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপনের শুভ সূচনা করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর ) প্রত্যুষে মাটিরাঙ্গা উপজেলা পরিষদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে নির্মিত স্বাধীনতা সোপানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে ৭১’র রনাঙ্গনে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এর আগে, দিবসের শুরুতেই ৩১ বার তোপধ্বনি প্রদান করে মাটিরাঙ্গা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান, উপজেলার সকল বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে স্বাধীনতা সোপানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
একই সময়ে, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মাটিরাঙ্গা সার্কেল) কাজী ওয়াজেদ, মাটিরাঙ্গা থানার ওসি মো. শাহেদ উদ্দিন, মাটিরাঙ্গা প্রেস ক্লাব, মাটিরাঙ্গা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে র্যালী সহকারে স্বাধীনতা সোপানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর, সরকারি কর্মচারী ক্লাব, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেএসএস পার্বত্য চট্রগ্রাম, ইউপিডিএফ(গণতান্ত্রিক), প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, হিউমান রাইটস রিভিউ সোসাইটি, সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ শ্রদ্ধা জানান।
ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পর এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
পরে সর্বস্তরের জনসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য স্বাধীনতা সোপান সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এছাড়াও উপজেলা ডিজিটাল সেন্টারে ৩ দিন ব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়।
একই দিনে সকাল ৯টার দিকে মাটিরাঙ্গা বনশ্রী বিদ্যানিকেতন মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ উপলক্ষে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
মাটিরাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমতিয়াজ উদ্দিন প্যারেড কমান্ডার হিসেবে কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন। এ সময় মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুর রহমান দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাটিরাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহেদ উদ্দিন। পরে তাঁরা কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারীদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতি মুক্তি লাভ করেছিল মহান বিজয়ের এই দিনে। বাঙ্গালি জাতির জন্য এক স্মৃতিবিজড়িত দিন ১৬ ডিসেম্বর। এদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের,যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ নামক একটি ভূখণ্ডের।