
খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি।।
পার্বত্য অঞ্চলে কফি ও কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণ, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিক কৃষিকে আরও গতিশীল করতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে কফি ও কাজুবাদামের চারা এবং আধুনিক কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প”-এর আওতায় কৃষক ও বাগান মালিকদের মধ্যে এসব চারা ও কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় মোট ৮ হাজার ৩৫০টি কফি ও কাজুবাদামের উন্নত জাতের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কাজুবাদামের জাতভিত্তিক প্রদর্শনীর জন্য ১৬০টি এবং বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর জন্য ৫০০টি চারা দেওয়া হয়। এছাড়া কফির জাতভিত্তিক প্রদর্শনীর জন্য ২৭০টি এবং বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর জন্য ১ হাজার ১২৫টি চারা বিতরণ করা হয়।
চারার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত কফি ও কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতকরণ সহজ করতে কফি পালপিং মেশিন, কফি ড্রায়ার মেশিন, কাজুবাদাম কাটিং মেশিনসহ বিভিন্ন আধুনিক কৃষি উপকরণও বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক শহিদুল ইসলাম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে চারা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করেন মুক্তা চাকমা।
এ সময় মুক্তা চাকমা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি কফি ও কাজুবাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সরকারের এ উদ্যোগের ফলে কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে উচ্চমূল্যের এ দুই ফসল চাষে আরও আগ্রহী হবেন। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে নতুন কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, কফি ও কাজুবাদাম বর্তমানে দেশের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সঠিক পরিচর্যা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে খাগড়াছড়ির কৃষকরা এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারবেন।
উপকারভোগী কৃষক ও বাগান মালিকরা জানান, উন্নত জাতের চারা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ফলন ও পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কফি ও কাজুবাদাম চাষে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় কফি ও কাজুবাদাম চাষের সম্প্রসারণ কৃষকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি এটি স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।