বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুর্যোগকবলিত হাজার পরিবারকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের খাদ্য সহায়তা প্রদান “প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মানুষের জীবন রক্ষায় কাজে লাগান”… ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক পানছড়ি বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫ কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ভোটার নিবন্ধনে যাচাই-বাছাই জোরদার লামায় ফলাফল আর মানবিকতায় অনন্য রামু শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক অ্যান্ড কলেজ দুর্গম পাহাড়ে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ প্রশিক্ষণ, সনদ বিতরণ কাপ্তাইয়ে তথ্য অফিসের ফ্যামিলি সমাবেশ ও আলোচনা সভা বাঘাইছড়িতে ২৭ বিজিবির বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ আলীকদমে আইন-শৃঙ্খলা সভা, জননিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্ব টানা ১৭ দনি পর বান্দরবানরে থানচি ও রুমার সাতটি র্পযটনকন্দ্রে উন্মুক্ত বিশেষ অপারেশনের পাশাপাশি শিক্ষা ও জনকল্যাণে ৩৮ বিজিবি আলীকদম যৌথ অভিযানে ইয়াবাসহ একজন আটক  কাপ্তাইয়ে পাহাড়ি ছাগলের কদর বেশি, মনসা পূজা ঘিরে জমজমাট হাট ফাইতং দূর্গম পাহাড়ে সাফল্যের পথে সোনাইছড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রামুতে বাপা’র উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষার্থীদের চারা বিতরণ আলীকদমে যৌথ অভিযানে ৩৩৯ রাউন্ড গুলিসহ একজন আটক 

“প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান মানুষের জীবন রক্ষায় কাজে লাগান”… ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক

Reporter Name

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি:

“আপনাদের একজনের মাধ্যমে যদি কোনো অসুস্থ মা কিংবা শিশুর সময়মতো সেবা নিশ্চিত হয়, যদি একটি জীবনও রক্ষা পায়, তাহলেই এই উদ্যোগ সার্থক হবে” খাগড়াছড়িতে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক।

তিনি বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্রসূতি মা কিংবা অসুস্থ শিশু যখন তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন অনুভব করে, তখন প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের প্রাথমিক সহায়তা ও সঠিক সিদ্ধান্ত একটি জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি জোন সদরে সেনা রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে ৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা এসে গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসাবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা তারা নিজ নিজ এলাকায় কাজে লাগাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের হাতে যে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে, এটি শুধু একটি প্রশিক্ষণের স্বীকৃতি নয়; এর সঙ্গে মানুষের সেবা ও কল্যাণের একটি দায়িত্বও যুক্ত হয়েছে।”

তিনি জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রত্যেককে একটি করে কিট ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় কিছু মৌলিক উপকরণ রয়েছে। এগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, চিকিৎসা ও নার্সিংসেবার ক্ষেত্রে শুধু জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, সেই জ্ঞান নিয়মিত চর্চা ও প্রয়োগ করতে হবে। এ কাজের জন্য সবসময় আর্থিক প্রতিদান পাওয়া নাও যেতে পারে। তবে জনস্বার্থে, জনকল্যাণে এবং মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করার মানসিকতাই হবে এই প্রশিক্ষণের সবচেয়ে বড় অর্জন।

তিনি বলেন, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। একটি অসুস্থ মা কিংবা শিশুর সংকটময় সময়ে সঠিক প্রাথমিক সহায়তা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত অনেক সময় বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

প্রশিক্ষণ আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্সসেবা, সদর হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক ও প্রশিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়েছেন। তাঁদের এই অবদান প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষকদের দেওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সর্বোত্তম প্রতিফলন ঘটবে বাস্তব জীবনে কোনো একজন রোগীর সঠিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে, কোনো একজন মা বা শিশুর জীবন রক্ষার মাধ্যমে।

ভবিষ্যতেও দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আজকের এই প্রশিক্ষণ যেন এখানেই শেষ না হয়; বরং আপনাদের মাধ্যমে এটি ছড়িয়ে পড়ুক মানুষের দোরগোড়ায়।”

অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন ডা. রতন খীসা, জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই সপ্তাহের এ প্রশিক্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীরা গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন। সনদ ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় মানুষের সেবায় তা কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রশিক্ষণার্থীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *