
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি।।
সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত, কর্মহীন ও অসহায় এক হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে রাঙ্গামাটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মারী স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মো. হাবীব আজমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম শফি, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি ইদ্রিস হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক কবির আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক হাদিমুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র ও জীবিকার পথ হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছে। এই মানবিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। পর্যায়ক্রমে রাঙ্গামাটি পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের দুর্যোগকবলিত পরিবারের মাঝে ধারাবাহিকভাবে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে কোনো অসহায় পরিবার বঞ্চিত না হয়।
বিপুলসংখ্যক উপকারভোগীর উপস্থিতি সত্ত্বেও কোতোয়ালি থানা পুলিশের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সার্বিক নিরাপত্তায় পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা সারিবদ্ধভাবে নির্বিঘ্নে খাদ্যসামগ্রী গ্রহণ করেন।
হঠাৎ পাওয়া খাদ্য সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। খাদ্য সংকটের মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর জন্য তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি সংস্কার ও স্থায়ী পুনর্বাসনে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি-বেসরকারি সহায়তা অব্যাহত রাখার আবেদন জানান তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের সময়োপযোগী মানবিক উদ্যোগ দুর্যোগকবলিত মানুষের তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি পুনর্বাসনে নতুন আশার সঞ্চার করবে।