
দিদারুল হৃদয়, গুইমারা সংবাদদাতা।।
খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে উপজেলার বাইল্যাছড়ি জোড়াব্রিজ এলাকায় তৈইমাতাই খাল এবং পরে জালিয়াপাড়ায় পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
পরে জালিয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুন তামান্নার সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জাকিয়া জিনাত বিথি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আফছার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক মিন্টু, গুইমারা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী ডালিমসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেশে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খনন কর্মসূচি চালু হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই উদ্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে পুনরায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণে সহায়তা মিলবে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এ ছাড়া কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর পরিচালিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় মোট ৯ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল পুনঃখননে ব্যয় হবে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ৪১৬ জন শ্রমিক। অন্যদিকে ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈইমাতাই খাল পুনঃখননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং এতে কাজ করছেন ৩৫৭ জন শ্রমিক। কর্মরত শ্রমিকেরা দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হতো না। এতে জলাবদ্ধতার কারণে ফসলি জমি, বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতো। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে সেচসংকটের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হতো।
তাঁদের প্রত্যাশা, খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।