শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ইউসিবি ব্যাংকের ত্রাণ বিতরণ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নতুন কমিটি ঘোষণা: রানা চেয়ারম্যান, সোলায়মান মহাসচিব রাণীরহাট-কাউখালী সড়কে বেইলি সেতু ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ লংগদুতে সেগুন বাগান কাটার অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক, বিএনপি নেতাকে শোকজ পাহাড়ধসে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে উদ্যোগের দাবি লামায় পাহাড়ি ঢল ও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-সেতু, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ কাপ্তাই লেকের পানি বাড়ায় স্পিলওয়ের ১৬ জলকপাট খুলে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড় বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সমন্বিত উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের সেবা পৌঁছাতে হবে: প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বিলাইছড়িতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু দুই বছরেও সংস্কার হয়নি সংযোগ সেতুর, দুর্ভোগে বাঘাইছড়ির হাজারো মানুষ রোয়াংছড়িতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী খাগড়াছড়িতে অবৈধ টিলা কাটার দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চকরিয়ায় ১,৫০০ বন্যাদুর্গত পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ, ৭০০ জনের চিকিৎসাসেবা আলীকদমে বন্যাদুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দিল খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন মহালছড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সেনাবাহিনী, নগদ অর্থ, ত্রাণ ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান বান্দরবানে বন্যার্ত ২৫০ পরিবারের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ, মেডিকেল ক্যাম্প চালু

আবাসন সংকটে লামার ১,৩২৫ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রভাব পড়ছে সেবায়

Reporter Name

মো. ইসমাইলুল করিম, লামা প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কোনো আবাসিক কোয়ার্টার বা ডরমিটরি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে চরম আবাসন সংকট বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংকট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে এবং সরকারি সেবার মানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

শনিবার (৬ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি আবাসনের অভাবে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভাড়া করা মেস কিংবা সাধারণ বাসাবাড়িতে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন পাহাড়ি ঘরে থাকছেন।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগ ও ডাক বিভাগ বাদে বর্তমানে লামা উপজেলায় ৩৩টি সরকারি দপ্তর রয়েছে। এসব দপ্তরে ১৪২ জন কর্মকর্তা ও ১ হাজার ১৮৩ জন কর্মচারীসহ মোট ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মরত আছেন। তাদের জন্য কোনো সরকারি আবাসন ব্যবস্থা নেই।

আবাসন সংকটের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দূরবর্তী এলাকা থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে, যা দাপ্তরিক কার্যক্রম ও সেবাদানে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লামা উপজেলা প্রশাসনের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা উচিংমে চাক বলেন, “দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নারী কর্মকর্তা হিসেবে আবাসন সুবিধার অভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবার নিয়ে থাকার উপযোগী বাসা পাওয়া কঠিন, আর পাওয়া গেলেও ভাড়া অনেক বেশি।”

সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা বামং সিং মার্মা বলেন, “ডরমিটরি না থাকায় অনেককে অনুপযুক্ত পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হলে কর্মপরিবেশ ও কাজের মান আরও উন্নত হবে।”

সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদ বলেন, “বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যোগদানের পরপরই আবাসন সংকটে পড়েন। নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় অনেককে উচ্চ ভাড়ায় বাসা নিতে হচ্ছে। অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মেসে বসবাস করছেন।”

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাঞ্চন দে বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। একটি আধুনিক ডরমিটরি বা আবাসিক কোয়ার্টার নির্মাণ সময়ের দাবি।”

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, “বান্দরবানের সাতটি উপজেলার মধ্যে ছয়টিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসার্স কোয়ার্টার ও ডরমিটরি রয়েছে। শুধুমাত্র লামা উপজেলায় এ ধরনের কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।”

তিনি জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে ইতোমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সম্ভাব্য স্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবাসন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশের উন্নতির পাশাপাশি সরকারি সেবার মানও আরও বৃদ্ধি পাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *