March 6, 2026, 9:06 am
শিরোনাম :
মহালছড়িতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকারভোগীদের টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ বান্দরবানে অসহায়দের মাঝে সেনাবাহিনীর ইফতার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা খাগড়াছড়িতে নারী দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে সনাকের প্রস্তুতি সভা খাগড়াছড়িতে গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী ও যন্ত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে চারদিনব্যাপী মিউজিক ক্যাম্প উদ্বোধন সাজেকে শতাধিক পরিবারের মাঝে বিজিবির ইফতার সামগ্রী বিতরণ খাগড়াছড়িতে প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সুবিমল চাকমাকে নিয়ে আলোচনা উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা আটক পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা অপরিহার্য: পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান “দরিদ্র মানুষের অধিকারকে কেউ যেন সহমর্মিতা না ভাবেন” — সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী খাগড়াছড়িতে খুচরা সার বিক্রেতাদের বহাল রাখার দাবিতে স্মারকলিপি গুইমারায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পানছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় আলোচনা সভা বরকলে ১২ বিজিবির উদ্যোগে রমজানে এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সহায়তা বিলাইছড়িতে বাজারে মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা পার্বত্য মন্ত্রীর সঙ্গে তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সৌজন্য সাক্ষাৎ
Notice :

কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় বোরো চাষ অনিশ্চিত, দুশ্চিন্তায় হাজারো কৃষক

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধি।।

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ-এর পানি দ্রুত না কমায় বোরো মৌসুমে ধান চাষসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে পানি না কমলে কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চলতি মৌসুমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রাও ব্যাহত হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিলাই বাজার এলাকা, কেরনছড়ি, ধূপ্যাচর, দীঘলছড়ি, কুতুবদিয়া, মাছকাবাছড়া, শুকনাছড়া, সাক্রাছড়ি, বহলতলী ও ভালাছড়ি এলাকায় হ্রদের উঁচু অংশের কিছু জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। তবে নিচু স্তরের অধিকাংশ জমি এখনও পানির নিচে থাকায় সেখানে চাষ শুরু করা সম্ভব হয়নি। একই চিত্র হ্রদসংলগ্ন অন্যান্য উপজেলাতেও।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলা প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু পানি না কমায় রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে, কোথাও কোথাও বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, গত বছর এই সময়ে পানির স্তর আরও নিচে ছিল। নির্বাচনের সময় যোগাযোগ সুবিধার কথা বিবেচনায় পানি ধরে রাখা হয়েছিল বলে তারা শুনেছিলেন, তবে নির্বাচন শেষ হলেও প্রত্যাশিত হারে পানি না কমায় তারা হতাশ।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮০ হেক্টর। তবে পানি দ্রুত না কমলে বাস্তবে উৎপাদন ৭৫ হেক্টরের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায় বলেন, “নির্ধারিত সময়ে পানি না কমলে চাষের সুযোগ সংকুচিত হয় এবং উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়।”

এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আহাম্মদ বলেন, কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমিতে বছরে একবারই চাষ সম্ভব। সঠিক সময়ে পানি কমানো না হলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

অন্যদিকে, সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্ক-এর সাধারণ সম্পাদক শান্তি বিজয় চাকমা বলেন, নৌচলাচলের প্রয়োজন বিবেচনায় রেখে নির্দিষ্ট অংশে পানি সংরক্ষণ করা যেতে পারে, তবে অধিকাংশ চাষযোগ্য জমি দ্রুত পানিমুক্ত করা জরুরি।

পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট পিডিবি কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচনের আগে একটি গেট খোলা ছিল, বর্তমানে দুটি গেট খোলা রয়েছে। বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা প্রায় ৯৩ ফুট এমএসএল (গবধহ ঝবধ খবাবষ)। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ৫৪ হাজার একর জমি স্থায়ীভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে পানি ব্যবস্থাপনা একটি সংবেদনশীল বিষয়।

এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা বিষয়টি মানবিক ও কৃষিবান্ধব দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার জন্য নবনিযুক্ত পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপির সুদৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও নৌচলাচলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা গেলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ক্ষতি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।