বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নানিয়ারচরে রেকর্ড ৭৭টি দলের অংশগ্রহণে শুরু হলো রাধামোহন চাকমা স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ঈদগাঁওতে অভিবাসন বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত ঈদগাঁওতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীরা সংবর্ধিত খাগড়াছড়িতে ৫০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন কারাগারে প্রকৃতি রক্ষায় সচেতনতার আহ্বান, খাগড়াছড়িতে ‘প্রকৃতি’র মোড়ক উন্মোচন বিলাইছড়িতে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত আলীকদমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে আবেদন লামায় ১১ মাস পর শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার সাংবাদিক-প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসেবা আরও কার্যকর হবে: ইউএনও মিশকাতুল তামান্না মহালছড়িতে একমাত্র A+ পাওয়া টুম্পা চাকমাকে উপজেলা প্রশাসনের ফুলেল সংবর্ধনা ও সহায়তা প্রদান কাপ্তাইয়ে বিশ্ব হাতি দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা কাপ্তাই জেটিঘাটে কচুরিপানার স্তূপ, ব্যাহত নৌযান চলাচল মহালছড়িতে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও করণীয় নিয়ে অংশীজন সভা শান্তি-সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার প্রত্যয়ে লক্ষীছড়ি জোনের ১০ বছর সিন্দুকছড়ি জোনের আয়োজনে মানিকছড়িতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটিতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃত্যু

ঝুলন্ত সেতুতে মৃত্যুঝুঁকি, বিপাকে দশ গ্রামের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ

মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদ, থানচি প্রতিনিধি।।

মোঃ শহিদুল ইসলাম শহীদ, থানচি প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার একমাত্র ঝুলন্ত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় প্রতিদিনই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে অন্তত দশ গ্রামের মানুষ। সেতুর দুই পাশে ঝুলানো লোহার তার ঢিলেঢালা হয়ে পড়েছে, নিচের কাঠের পাটাতন ভেঙে ও নষ্ট হয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি ও জিরি পানির তোড়ে সেতুর কাঠের পাটাতন বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় জসিম উদ্দিনসহ এলাকাবাসী কয়েক দফা নিজেদের উদ্যোগে মেরামতের চেষ্টা করলেও তা টেকসই হয়নি। সেতুর এক পাশে লাগানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে— “ঝুলন্ত ব্রিজ সংস্কার কাজ, ২০২৫–২৬ অর্থবছর, জেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়ন; ১.৫ মেট্রিক টন চাল ও ১.৫ মেট্রিক টন গম”। তবে বাস্তবে সংস্কার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, নামমাত্র সংস্কার করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। দুই পাশে লোহার শিকল ঢিলেঢালা থাকায় পাটাতন নিচের দিকে দেবে গেছে। বাজারমুখী প্রবেশপথে সেতুর সিঁড়ি ভেঙে যাওয়ায় চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেতুর নেমপ্লেট থেকে উদ্বোধনের তথ্য মুছে যাওয়ায় নির্মাণকাল জানা না গেলেও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাষ্যমতে, সেতুটির বয়স অন্তত ২৪ বছরের বেশি।

প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং নারী-পুরুষ চলাচল করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, “সেতু পার হতে খুব কষ্ট হয়, একটু অসাবধান হলেই পড়ে যাওয়ার ভয়।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, “এমন সংস্কারে কোনো লাভ হয়নি। কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে শেষ করা হয়েছে।”

বিশেষ করে সপ্তাহে দুই দিন হাটবারের সময় ঝুঁকি আরও বাড়ে। পাহাড়ি পাড়া-গ্রামের মানুষ নিজেদের উৎপাদিত ফসল কাঁধে করে বাজারে আনতে এই ঝুলন্ত সেতুটিই ব্যবহার করেন। যদিও প্রায় ২০০ ফুট দূরে যানবাহন চলাচলের জন্য একটি পাকা সেতু রয়েছে, তবে সেটি ব্যবহার করলে বাজারে যেতে দূরত্ব ও সময় বেড়ে যায়। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা ঝুলন্ত সেতুটি বেছে নিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, “সম্প্রতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাজার চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সেতু নির্মাণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি জেলা পরিষদ দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেবে।”

এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে ঝুলন্ত সেতুটি অপসারণ করে টেকসই ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ না করা হলে যে কোনো সময় প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *