বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ঔষধ ও ত্রাণ বিতরণ সেনাবাহিনী ১৬ বেঙ্গল’র উদ্যোগে দুর্গম এলাকায় শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা প্রদান খাগড়াছড়ি পৌরসভার ১৩৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা, নতুন কর নেই খাগড়াছড়িতে ১৭৬ বন্যাকবলিত পরিবার পেল নগদ সহায়তা ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী সাজেকে নিহত শিক্ষিকার পরিবারকে পাশে থাকার আশ্বাস বিজিবির বান্দরবানে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা শুরু, দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণে গুরুত্বারোপ পানছড়িতে বন্যাদুর্গত ১৫০ পরিবার পেল ত্রাণ সহায়তা খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষা শিক্ষা ক্লাবের উদ্বোধন রাঙ্গুনিয়ায় অসহায় ও অসুস্থ রোগীদের আর্থিক সহায়তা দিল প্রবাসী কর্ণফুলী ক্রীড়া পরিষদ আগাম প্রস্তুতিতে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমেছে, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনের ঘোষণা পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর ছয় মাসে বদলে গেল মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের চিত্র বান্দরবানে শতাধিক বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ উখিয়ায় বন্যাদুর্গত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর স্বাস্থ্যসচেতনতা কর্মসূচি, ৪৭৭ জনের চিকিৎসাসেবা বিলাইছড়ির ফারুয়ায় বন্যাদুর্গত আরও ৬০০ পরিবারকে ত্রাণ দেবে আশিকা পানছড়ি বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি থেকে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের উড়ান: পিএইচডি অর্জন করলেন ড. সজীব ত্রিপুরা

Reporter Name

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, স্টাফ রিপোর্টার।।
খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কঠোর সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সজীব ত্রিপুরা। তাঁর এই অর্জনকে ঘিরে পার্বত্য অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন ও গর্বের অনুভূতি।

ড. সজীব ত্রিপুরা নিজের ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, তাঁর জীবনের তিনটি বড় স্বপ্ন ছিল—ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া এবং সর্বশেষ পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন। দীর্ঘ প্রতিকূলতা, সীমাহীন সংগ্রাম এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তিনি প্রতিটি লক্ষ্য পূরণ করতে সক্ষম হন।

প্রথম স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার মাধ্যমে। দ্বিতীয় স্বপ্ন পূরণ হয় ২০১৬ সালে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে তৃতীয় ও শেষ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন।

নিজের শৈশব স্মৃতিচারণে তিনি তুলে ধরেন এক কঠিন বাস্তবতার চিত্র—অবকাঠামোবিহীন বিদ্যালয়, কাদামাটির পথ, বর্ষাকালে হাঁটুসমান কর্দমাক্ত রাস্তা, সীমিত খাদ্যসংস্থান এবং শিক্ষা উপকরণের অভাবের মধ্যেও তার শিক্ষা জীবন এগিয়ে যায়। তবুও শিক্ষক মংমং মারমার মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের হাত ধরে তিনি ইংরেজি শিক্ষায় দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।

বিদেশে পিএইচডি গবেষণার সময় তিনি ভাষাগত বাধা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, একাকীত্ব এবং তীব্র গবেষণা চাপের মধ্যেও নিয়মিত মিটিং, প্রেজেন্টেশন ও একাডেমিক লক্ষ্য পূরণ করে যেতে বাধ্য হন। একাধিকবার গবেষণাপত্র রিজেক্ট হওয়ার পরও তিনি থেমে যাননি।

ড. সজীব ত্রিপুরা তাঁর সাফল্যের পেছনে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষক, সহকর্মী ও বন্ধুদের অবদানকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর এই অর্জন সকল সহযোগী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি উৎসর্গ করেছেন।

তার এই সাফল্যকে পার্বত্য চট্টগ্রামের তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে—যেখানে সীমাবদ্ধতা নয়, ইচ্ছাশক্তিই নির্ধারণ করে সাফল্যের পথ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *