
রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় কনফারেন্স হলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) হাসনাত জাহান খান বলেন, “বাংলা ভাষার পাশাপাশি আমাদের উপজাতীয় ভাষাগুলোও দেশের ঐতিহ্যের অংশ। চাকমা, মার্মা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, গারো, সাওতালসহ সকল ভাষাকে সমৃদ্ধ এবং সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা শিশুদের বাংলা ভাষার সঠিক চর্চার জন্য মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করতে সচেষ্ট হতে হবে। তবে অন্য ভাষা শেখার গুরুত্বও অপরিসীম।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিনয়ের সাথে অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন এবং সুন্দর জাতি গঠনের জন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বড়দেরও বই পড়া প্রয়োজন, যাতে শিশুরা অনুকরণ করতে পারে।” এছাড়া দিবস উপলক্ষে যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তাদেরকে সতর্ক করা হয়।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (ভারঃ) ডা. মোহাম্মদ গোলাম আজম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজেশ প্রসাদ রায়, সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাফর আহমেদ, কুতুবদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা, প্রভাষক ইয়াসমিন সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুবেল বড়ুয়া।
উপজেলা প্রশাসন, পুলিশসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিবসের প্রথম প্রহরে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা ও পতাকা অর্ধনমিত রাখে। এরপর বিলাইছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাত ফেরী অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, প্রতিযোগিতায় সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় তাদের সন্তানদের চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃতি ও অন্যান্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে আগ্রহ কমছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরদারি প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।