
পবিত্র মাহে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলায় ফলের বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে তরমুজের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কয়েকদিন আগের তুলনায় লেবুর দাম কমে আসায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
মাটিরাঙ্গার বিভিন্ন বাজারে এখন তরমুজের আধিক্য চোখে পড়ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে ইফতারে তরমুজের ব্যবহার বাড়ায় বাজারে চাহিদাও বেড়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া জানান, তিনি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার এলিটগঞ্জ এলাকা থেকে উন্নতমানের মিষ্টি তরমুজ সংগ্রহ করে মাটিরাঙ্গায় বিক্রি করছেন। আকারভেদে প্রতিটি তরমুজ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানে নিজে খাওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে তরমুজ পাঠানোর সামাজিক প্রবণতার কারণে বিক্রি তুলনামূলক ভালো হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে উচ্চমূল্য, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে বলে তাদের দাবি।
রমজানের শুরুতে লেবুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে উদ্বেগ দেখা দিলেও বর্তমানে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। আগে যেখানে প্রতি হালি লেবু ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় নেমে এসেছে।
তবে লেবুর দামে স্বস্তি ফিরলেও শসা ও খিরার বাজার এখনও চড়া রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি শসা ৬০ টাকা এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খিরা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মানভেদে প্রতি হালি কলা ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
স্থানীয় ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে ঠান্ডা তরমুজ শরীরের জন্য স্বস্তিদায়ক। দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবারের কথা বিবেচনায় কিনতে হচ্ছে। তবে লেবুর দাম কমায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো কিছুটা উপকৃত হয়েছে।
অন্যদিকে গৃহিণী জামিলা বেগম জানান, লেবুর দাম কমলেও শসা ও খিরার দাম না কমায় ইফতারের বাজেট সামলাতে কষ্ট হচ্ছে।
ফল বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, লেবুর সরবরাহ ভালো থাকায় দাম কমেছে। কিন্তু শসা ও খিরার সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রমজান মাসজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে ফলের বাজার স্থিতিশীল থাকবে এবং বেচাকেনা বর্তমান ধারায় অব্যাহত থাকবে।